
প্রতিনিধি 7 April 2026 , 4:19:05 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হতে যাচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর আসন্ন সফর। মরিশাসে অনুষ্ঠেয় ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পথে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে তার যাত্রাবিরতি নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়; বরং এটি বহুমাত্রিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও সময়ের সাথে সাথে এতে কিছু জটিলতা ও অমীমাংসিত ইস্যু জমা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার মতো বিষয়গুলো কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত সম্পর্কেরও ভিত্তি নির্ধারণ করে।
একই সঙ্গে অজিত দোভাল, পীযূষ গোয়েল এবং হারদীপ সিং পুরি-এর সঙ্গে বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দেয় যে আলোচনার পরিধি কেবল পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জ্বালানি- এই তিনটি স্তম্ভেই সম্পর্ককে পুনঃসংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে।

বিশেষ করে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং বাণিজ্য ভারসাম্যের মতো দীর্ঘদিনের ইস্যুগুলো আবার আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে, ফলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সমাধানও জরুরি।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রতীকী মূল্য। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর, যা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান-এর প্রশাসনের একজন মন্ত্রী। ফলে এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারও তুলে ধরে।
দিল্লি সফর শেষে মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস-এ অনুষ্ঠিত ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মেও নিজ অবস্থান জোরদার করতে চায়। এই সম্মেলন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই সফরটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একটি ‘কূটনৈতিক রিসেট’-এর সূচনা হতে পারে। পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তব স্বার্থের ভিত্তিতে যদি আলোচনাগুলো এগোয়, তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।