• আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ভুল’ খামেনিকে হত্যা করা: মার্কিন বিশ্লেষক

      প্রতিনিধি 1 March 2026 , 11:52:15 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি: সংগৃহীত
    ছবি: সংগৃহীত
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো ফলে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে চলমান আলোচনা আবারও ভেস্তে গেল। পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান।

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনী সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর যেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন দ্রুত সমঝোতার আশা করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র খামেনিকে হত্যা করে বড় ভুল করেছে।’

    রোববার (১ মার্চ) আল-জাজিরাকে এসব কথা জানান তিনি।

    মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পরও ইরান পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। তেহরানের হাতে এখনও পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সমীকরণকে দীর্ঘ সময় অস্থির করে রাখতে পারে। এমনকি প্রতিপক্ষকে বেসামাল করার জন্যও তারা এখনও ‘যথেষ্ট’ শক্তিশালী বলে দাবি করছেন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা।

    তিনি বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান ‘খুবই চিত্তাকর্ষক’ ছিল। তবে তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই হামলা এখনও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। উলম্যান বলেন, ‘নেতৃত্বতে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল তখনই কার্যকর হয়, যখন পুরো নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে ফেলা যায়। সব নেতাকে সরানো খুব কঠিন। আর আমি মনে করি না, সেটা আমরা করতে পেরেছি।’

    বিজ্ঞাপন

    গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিলোয়েন গ্রুপের এই চেয়ারম্যান বলেন, এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, তার জায়গায় নতুন নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারজানির নাম ঘোষণা করেছেন।

    উলম্যানের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখন অনেকের চোখে ‘শহীদ’। ফলে তার মৃত্যু ইরানের ভেতরে সমর্থন আরও শক্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি যদি এখনও বেঁচে থাকেন, তবে তিনি অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারেন। এবং তার প্রতিশোধও হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।’

    তার মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে তারা আরও আলোচনায় আগ্রহী হবে; এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং এতে লারিজানির মতো নেতারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘শিরচ্ছেদ’ করার কৌশল তখনই কার্যকর হয়, যখন সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে একসঙ্গে সরানো যায়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র তা করতে পেরেছে’।

    সামরিক দিক থেকেও ইরানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন হারলান উলম্যান। তার মতে, দেশটির হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্র থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

    মার্কিন এই বিশ্লেষক বলেন, ‘ইরান বহুদিন ধরেই ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তারা রাশিয়ার কাছেও বিপুল পরিমাণ ড্রোন বিক্রি করেছে। তাই ধারণা করা যায়, তাদের হাতে এখনও অনেক সক্ষমতা লুকিয়ে আছে।’ সাম্প্রতিক হামলা সত্ত্বেও ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা ভাবার সুযোগ নেই। আঞ্চলিক সংঘাত যে দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে, সেই আশঙ্কাই এখন জোরালো হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    6:57 PM বাফুফের বর্ষপঞ্জি: ঘরোয়া ২৩, আন্তর্জাতিক ৪৭ প্রতিযোগিতা 6:43 PM স্পেনের জার্সি নম্বর প্রকাশ: ইয়ামাল নয়, ১০ নম্বর পরবেন ওলমো 5:14 PM চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপের ৪৮ দেশের স্কোয়াড, দেখে নিন একনজরে 4:10 PM চলচ্চিত্রে সালমানের ‘হরিণ হত্যা’র ঘটনা, বাঁধল বিপত্তি 3:30 PM ভিসা নিয়মে বড় পরিবর্তন ভারতের, মানতে হবে নতুন নিয়ম 3:16 PM হেনস্তার অভিযোগ নায়লা নাঈমের 1:38 PM বিসিবি নির্বাচনের তপশিল-ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট 1:10 PM আমি পলিটিক্সের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম: পরীমণি 12:44 PM তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়া 12:34 PM মেসির ২০২ নম্বর রুম ঘিরে আর্জেন্টিনার স্বপ্নে নতুন রঙ