
প্রতিনিধি 30 June 2026 , 4:25:53 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষ বত্রিশের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলে জয়ের পর বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাথেউস কুনহা এবং কাসেমিরো। দক্ষিণ এশিয়া থেকে সেলেসাওদের প্রতি অনবরত বয়ে চলা এই ভালোবাসার প্রতিক্রিয়ায় দুই খেলোয়াড়ই তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের রাউন্ডে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে জাপান এগিয়ে থাকলেও, ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর চমৎকার হেডের সাহায্যে করা গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায় এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি নাটকীয়ভাবে জয়সূচক গোলটি করেন।
খেলা শেষ হওয়ার পর সবার মনোযোগ মাঠ থেকে গ্যালারি এবং তার বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের একজন সাংবাদিক কাসেমিরোকে জানান, ব্রাজিলের এই জয় উদযাপন করতে বাংলাদেশের সমর্থকেরা মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে রাস্তায় নেমে উল্লাস করেছেন।
কথাটি শুনে এই মিডফিল্ডার হাসি দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমাদের প্রতি আপনাদের এই সত্যিকারের সমর্থনের জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনহাও বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এই ভালোবাসার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন।
কুনহা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমরা যে সমর্থন পাই তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি আপনাদের ভাষায় কথা বলতে পারছি না, সেজন্য দুঃখিত। তবে আমি বলতে চাই, আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। সবার জন্য ভালোবাসা ও আলিঙ্গন রইল।’
বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার প্রতি ব্যাপক সমর্থনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের একটা আলাদা সুনাম তৈরি হয়েছে। বিশাল আকৃতির পতাকা, গভীর রাতের উদযাপন এবং কানায় কানায় পূর্ণ রাস্তাঘাট নিয়মিতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও খেলোয়াড়দের নজর কেড়ে চলেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিফা এবং বেশ কয়েকজন ফুটবল ব্যক্তিত্ব এই দৃশ্যগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। আর ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এখন বাংলাদেশে তাদের এই বিশাল ভক্তকূল থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে।
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলটি যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে, তেমনই হাজার হাজার মাইল দূরে বসে খেলা দেখা অনেক সমর্থকের কাছে ম্যাচ শেষে তার বলা এই কথাগুলোও ঠিক সমপরিমাণ গুরুত্ব বহন করবে।