
প্রতিনিধি 21 June 2026 , 3:03:04 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ এবার পৌঁছে গেছে মহাকাশে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বলটির গতিবিদ্যা ও কর্মক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন নাসার নভোচারীরা।
নাসা জানিয়েছে, আইএসএসে অবস্থানরত গবেষকরা অ্যাডিডাস নির্মিত ট্রিওন্ডা বল ব্যবহার করে ২০১৯ সালের একটি গবেষণার পুনরাবৃত্তি করেন। পরীক্ষায় বলের ভারসাম্য ও ভরকেন্দ্র (সেন্টার অব মাস) কীভাবে এর গতিপথকে প্রভাবিত করে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
নাসা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, ফুটবলের গতিবিধি আরও নির্ভুল ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে ক্রীড়া প্রকৌশলীরা বলের ভারসাম্য ও ভরকেন্দ্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করেন। মহাকাশে পরিচালিত এই গবেষণার মাধ্যমে সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ ভারসাম্যের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


সংস্থাটি বলছে, এই গবেষণা ফুটবলে ব্যবহৃত সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি ও অন্য সংযুক্ত ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে সহায়তা করবে। নাসার ভাষায়, ‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরিচালিত গবেষণা পৃথিবীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। ফুটবল খেলাকে আরও উন্নত করাও তার একটি উদাহরণ।’
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রিওন্ডা’ নামটি স্প্যানিশ শব্দগুচ্ছ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্যের প্রতীক।
বলটির নকশায় তিন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী লাল, সবুজ ও নীল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা চিহ্নও এতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ট্রিওন্ডা বেশ আধুনিক। বলটিতে গভীর সিম ও বিশেষ পৃষ্ঠতল নকশা রয়েছে, যা উড্ডয়ন স্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং ভেজা আবহাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ সহজ করে।
এ ছাড়া বলটিতে ৫০০ হার্টজ গতির সেন্সরচিপযুক্ত উন্নত ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই সেন্সর রিয়েল-টাইম তথ্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠায়, যা অফসাইডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সহায়তা করে।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলকে মহাকাশে নিয়ে এ ধরনের গবেষণা ক্রীড়া বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার এক ব্যতিক্রমধর্মী সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।