
প্রতিনিধি 1 April 2026 , 1:26:46 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকাসহ দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও নিয়মিত সশরীরে পাঠদান সচল রাখার জোর দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অদূরদর্শী। সরকার একদিকে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তারা বলেন, প্রশ্ন জাগে, দেশে যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে তার দায় সবার আগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কেন চাপানো হচ্ছে? রাষ্ট্রের অন্য সব খাত ও বিলাসিতা সচল রেখে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।
করোনা মহামারীর সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও ডিভাইসের অভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যেমন শিখন ঘাটতি ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ কোমলমতিদের ঠেলে দেয় ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে।
এতে আরও বলা হয়, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায়, পুনরায় একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।
বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, জ্বালানি সংকট বা যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।