
প্রতিনিধি 25 June 2026 , 12:15:37 প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ৩৯ বছর পূর্ণ করে ৪০-এর পথে পা রেখেছেন। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সব সম্ভাব্য সাফল্য অর্জনের পরও জন্মদিনে তার কণ্ঠে ছিল না কোনো বাড়তি চাওয়া কিংবা নতুন স্বপ্নের ঘোষণা। বরং কৃতজ্ঞতা আর প্রাপ্তির কথাই উঠে এসেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বক্তব্যে।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নেয়া মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই তারকা প্রথম দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। জন্মদিনের ঠিক আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন।

সেই ম্যাচে গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে উঠে যান মেসি। ১৮ গোল নিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা। ব্যক্তিগত অর্জনের এমন এক উজ্জ্বল মুহূর্ত এবং নিজের জন্মদিন উপলক্ষে আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র ‘ওলে’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন তিনি।

মেসির ভাষ্য, জীবনে আর কোনো বিশেষ অর্জনের জন্য তার আলাদা করে প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। ফুটবল তাকে যা দেয়ার, প্রায় সবই দিয়েছে। তিনি বলেন, ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ খেলাধুলার জগতে একজন ফুটবলারের যা যা স্বপ্ন থাকতে পারে, তার প্রায় সবকিছুই পেয়েছি। এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং দীর্ঘদিন ধরে পাশে থাকা মানুষগুলোর সুস্বাস্থ্য ও ভালো থাকা।
জাতীয় দলের সঙ্গে বর্তমান সময়টাকে বিশেষভাবে উপভোগ করছেন বলেও জানিয়েছেন মেসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আর্জেন্টিনা যে সাফল্যের ধারায় রয়েছে, সেটিকে তিনি জীবনের অন্যতম মূল্যবান অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ক্ষুধা ও প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি ফুটবলার এমন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে, যেন সেটিই তাদের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। প্রতিপক্ষের নাম বা শক্তি যাই হোক না কেন, দল একই রকম মনোযোগ ও তীব্রতা নিয়ে খেলতে চায়।

মেসি বলেন, এই দলের অংশ হয়ে থাকাটাই আনন্দের। বছরের পর বছর ধরে দলটি দেশের মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে এবং বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরছে। সেই যাত্রার অংশ হতে পারাটাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন মেসি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের মতো সেখানেও ছিল তার স্বভাবসুলভ বিনয়। আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈশ্বরের কাছে আবার বিশ্বকাপ চাওয়া হয়তো অতিরিক্ত চাওয়া হয়ে যাবে। কারণ জীবন ও ফুটবল তাকে ইতিমধ্যে এত কিছু দিয়েছে, যা কল্পনারও বাইরে।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও মেসির পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব ও প্রভাব দেখে নতুন করে মুগ্ধ হচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। বয়স কেবল একটি সংখ্যা এ কথার যেন জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি। আর তাই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীও স্বপ্ন দেখছেন, বিশ্বমঞ্চে হয়তো আরও একবার সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন ফুটবলের এই মহাতারকা।