
প্রতিনিধি 22 June 2026 , 4:29:54 প্রিন্ট সংস্করণ

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পর্তুগালের হতশ্রী পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এখনও আলোচনার মূল বিষয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নিষ্প্রভ থাকা। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকার ছন্দহীনতার সঙ্গে দলের সমন্বয়হীনতাকেও কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন অনেকেই। বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার নিয়েও ফরোয়ার্ডদের কার্যকর পাস দিতে ব্যর্থ হওয়াকে দায় দিচ্ছেন সমর্থকদের একটি অংশ। এমন সমালোচনার মধ্যে ‘সিআর সেভেনকে’ পাস দেওয়া নিয়ে কি বাড়তি কোনো চাপ কাজ করছে সতীর্থদের মধ্যে?
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার সেই ধাক্কা সামলে রবের্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা আবার অনুশীলনে ফিরেছেন। আগামীকাল হিউস্টনে ‘কে’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।
ফ্লোরিডার পাম বিচে অনুশীলনের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও বলেন, গোল করার দক্ষতার দিক থেকে রোনালদোর মতো ‘দ্বিতীয় কেউ নেই’। আর দলের বাকি সবার মতো এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডও বিশ্বকাপে এসেছেন কেবলই ‘দলকে সাহায্য করতে’।
বিশ্বকাপে মাঠে সারাক্ষণ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেই বল জোগান দিতে হবে—এমন গুঞ্জন বা ধারণাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন কনসেইসাও। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের ওপর এমন কোনো বাড়তি চাপ নেই। কনসেইসাও বলেন, ‘তাঁকে (রোনালদো) বল পাস দিতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োজন আমাদের নেই। ক্রিস্তিয়ানো আমাদের জন্য একটা বড় উদাহরণ; কারণ প্রতিদিন অনুশীলনে তিনি যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দেন, তা দেখে মনে হয় এটাই যেন তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সেশন।’
কনসেইসাও আরও বলেন, ‘আমি মনে করি গোল করার যে সহজাত গুণ ক্রিস্তিয়ানোর আছে, সেই জায়গায় তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই। তবে মাঠে তাকেই বল পাস দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োজনীয়তা আমাদের নেই।’

নিজের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘যেমন আমার কথাই যদি বলি, মাঠের সেই মুহূর্তে যে খেলোয়াড় আনমার্কড (ফাঁকায়) থাকে এবং যাকে পাস দেওয়াটা সবচেয়ে ভালো অপশন মনে হয়, আমি তাকেই বল দিই। পাশেই আমার কোন সতীর্থ দাঁড়িয়ে আছে বা তার মুখ দেখার মতো সময় তখন থাকে না। আমার মনে হয়, মাঠে আমরা সবকিছুই নিজেদের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে করি। সব সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ে, এত কিছু ভাবার মতো সময় সেখানে থাকে না। আর অবশ্যই জাতীয় দলের বাকি সব খেলোয়াড়ের মতো ক্রিশ্চিয়ানোও এখানে এসেছেন দলকে সাহায্য করতেই।’
মাঠে রোনালদোর নিবেদন নিয়ে কনসেইসাও বলেন, ‘ক্রিস্তিয়ানো তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কারণেই সবার জন্য এক বড় উদাহরণ। ৪১ বছর বয়সে এসেও প্রতিদিন জেতার জন্য তাঁর যে ক্ষুধা, তা অবিশ্বাস্য। অনুশীলনে তিনি এতটাই উজ্জীবিত থাকেন যে দেখে মনে হয় এটাই যেন তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সেশন।’
কননেইসাও আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আমার জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য এবং আমাদের এই দলে যারা আছে সবার জন্যই তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কারণ, যিনি ক্যারিয়ারে এত কিছু অর্জন করার পরও এমন ক্ষুধার্ত থাকেন, তবে তাঁর অর্জনের কিছুটা হলেও ছুঁয়ে দেখতে আমাদের ক্ষুধাটা তো আরও কত গুণ বেশি হওয়া উচিত! কেবল এই কারণেই নয়, তাঁর নেতৃত্বগুণ এবং গোল করার দক্ষতার জন্যও তিনি আমাদের আদর্শ। দিনশেষে তিনি এই দলেরই একজন, যিনি আমাদের সাহায্য করতে এখানে এসেছেন। আর আমি বিশ্বাস করি, পুরো দলের সাফল্যের জন্য মাঠের প্রতিটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচটিতে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ২৩ বছর বয়সী কনসেইসাওয়ের বিশ্বকাপে অভিষেক হলো। ঠিক ২৪ বছর আগে তাঁর বাবা সের্জিও কনসেইসাও দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে খেলেছিলেন। পোর্তো থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে গত গ্রীষ্মে পাকাপাকিভাবে সিরি-আ জায়ান্ট জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলটির নিয়মিত মুখ এই উইঙ্গার। বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর বিষয়ে কনসেইসাও জানান, এই চাপের সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত।
কনসেইসাও বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা সবাই-ই চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। আমরা সবাই বড় বড় ক্লাবে খেলি, আর চাপ সবসময়ই থাকবে। আমরা এটা ভালো করেই জানি যে, পারফরম্যান্স যখন আশানুরূপ হয় না, তখন চাপ আর সমালোচনা আরও বাড়ে। এখন পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নিজের সেরাটা দিয়ে, যোগ্যতা প্রমাণ করে জয় ছিনিয়ে আনা এবং নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের একমাত্র কাজ।’