
প্রতিনিধি 7 May 2026 , 4:14:47 প্রিন্ট সংস্করণ

বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভেসোঁ কম্পানি ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেরা ফর্মের ধারেকাছেও যেতে পারল না তার দল। শেষ সময়ে গোল শোধ করে হার এড়াতে পারল বটে, কিন্তু বিদায় ঠেকাতে পারল না তারা। আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল পিএসজি।
বুধবার রাতে মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে ১-১ ড্র হয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায় শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে লুইস এনরিকের দল।
প্রথমার্ধে বায়ার্নের তোলা দুটি হ্যান্ডবলের জোরাল আবেদন নাকোচ করে দেন রেফারি, যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় স্বাগতিকরা। নিশ্চিতভাবে ম্যাচের পরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে ওই দুটি ঘটনা।
এই মাঠে গত আসরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল পিএসজি। সেখানে ফিরে এবার ম্যাচ জিততে না পারলেও, লক্ষ্য পূরণ হলো তাদের।

ম্যাচের মাত্র ১৩৯ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে পিএসজিকে ৬-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে দেন উসমান দেম্বেলে। শুরুতেই গোল খেয়ে যাওয়ার দায়টা অবশ্য বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকেই নিতে হবে। নিজের একাদশে ফুলব্যাকদের পজিশন অদলবদল করেছিলেন বায়ার্ন কোচ, যে সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে খিচা কাভারাস্কেইয়া যখন বিদ্যুৎ গতিতে ঢুকে বল বাড়ালেন, তখন উসমান দেম্বেলে একদম একা। ইয়োসিপ স্তানিসিচ পুরোপুরি ভুলে গেছেন তাঁকে মার্ক করতে। ব্যালন ডি’অর বিজয়ী দেম্বেলে কি আর এই সুযোগ হাতছাড়া করেন!
২১তম মিনিটে গোল করার সুযোগও পেয়ে যান কাভারাৎসখেলিয়া। তবে তার শট অনায়াসে ঠেকান নয়ার। সেমি-ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষকের প্রথম সেভ এটি।
৩০তম মিনিটে মাঝমাঠের কাছে মাইকেল ওলিসের পা থেকে বল পিএসজির নুনো মেন্দেসের হাতে লাগলে এই ডিফেন্ডারের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও ফ্রি-কিকের জোরাল দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু রেফারির সাড়া মেলেনি। টাচলাইনে ভীষণ ক্ষুব্ধ দেখা যায় বায়ার্ন কোচ কম্পানিকে।
একটু পর ভিতিনিয়া নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় শট করলে তারই সতীর্থ জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে। এবার পেনাল্টির দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু এবারও তাদের দাবি নাকোচ করে দেন পর্তুগিজ রেফারি। প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বায়ার্নের খেলোয়াড়রা।
ওই দুটি ঘটনার পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পায় পিএসজি। কাছ থেকে নেভেসের হেড ব্যর্থ করে দেন নয়ার।
প্রথমার্ধে কেবল একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। বিরতির আগে জামাল মুসিয়ালার ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভ।
গোলের জন্য বায়ার্নের বড় ভরসা যিনি, সেই কেইনকে প্রথমার্ধে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ওলিসেও ভালো খেলতে পারেননি।
এখন ৩০ মে বুদাপেস্টের ফাইনালের জন্য অপেক্ষা। একদিকে ২০ বছরের হাহাকার মেটানোর মিশন নিয়ে আর্সেনাল, অন্যদিকে রাজসিংহাসন ধরে রাখার অদম্য ইচ্ছায় পিএসজি।
সেরাদের হারিয়েই সেরা হতে হবে আর্সেনালকে!