
প্রতিনিধি 21 April 2026 , 12:22:54 প্রিন্ট সংস্করণ

লামিনে ইয়ামালের পেশাদার ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরও একটি সাফল্যের পলক। মাঠে নিয়মিত জাদুকরী পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের বুঁধ করে রাখা স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গার এখন ‘খেলাধুলার অস্কার’ খ্যাত দুটি লরিয়াস পুরস্কারের মালিক। বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার উঠেছে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গারের হাতে। পুরস্কার জেতার পর তিনি লিওনেল মেসিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটের আসনে বসালেন।
এবারের লরিয়াস বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল টেনিস। শীর্ষ দুই পুরস্কারের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই টেনিস তারকা। বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা।
বিভিন্ন খেলার সেরাদের সম্মানিত করতে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসের ২০২৬ আসর বসেছিল। যেখানে আবারও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন ইয়ামাল। লরিয়াস একাডেমি তাকে এবার ‘লরিয়াস ওয়ার্ল্ড ইয়াং স্পোর্টসপারসন অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত করে।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে সেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।’ লরিয়াস একাডেমি, তাকে ভোট দেওয়া কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং তার পরিবার ও কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এরপর ইয়ামাল কথা বলেন ফুটবলের সেই একমাত্র জাদুকরকে নিয়ে, যিনি লরিয়াসের বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মেসিকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘আপনি যখন বুঝতে পারবেন একজন খেলোয়াড় কেবল নিজের খেলার নয়, বরং গোটা ক্রীড়া জগতের কিংবদন্তি—তখন মেসির নামই আসে। আমার চোখে তিনি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। আর যদি তিনি সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট নাও হন, তবুও সেরাদের যে সংক্ষিপ্ত তালিকা, সেখানে তিনি অবশ্যই থাকবেন।’
২০২০ সালে লুই হ্যামিল্টনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথমবার লরিয়াস বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়েছিলেন মেসি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি আবারও এই সম্মাননা জেতেন।
মেসিকে নিজের আদর্শের চেয়েও বেশি কিছু মনে করা ইয়ামাল আরও যোগ করেন, ‘তিনি (মেসি) কেবল একজন আদর্শ নন, তার চেয়েও বড় কিছু। আমার মনে হয়, ক্যারিয়ারে তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করে। আমরা যখন ছোটবেলায় পার্কে বা স্কুলে ফুটবল খেলতাম, তখন আমাদের প্রত্যেকের শৈশবের অংশ হয়ে ছিলেন তিনি। আমি শুধু আশা করি, তাঁর দেখানো পথেই যেন এগিয়ে যেতে পারি।’
২০২৫ সালে বার্সেলোনাকে লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং কোপা দেল রে জেতাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ক্লাবের সাফল্যে মূল কারিগর ছিলেন লামিন ইয়ামাল। এই অসামান্য পারফরম্যান্স লরিয়াস একাডেমির পক্ষ থেকে তাঁকে আবারও এক বিশেষ স্বীকৃতি এনে দেয়। লরিয়াসের এই মঞ্চ তাঁর জন্য নতুন কিছু ছিল না, মাত্র এক বছর আগেই এই আসরে ইতিহাস গড়েছিলেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখায় গতবার ইয়ামালকে ‘লরিয়াস ওয়ার্ল্ড ব্রেকথ্রু অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে মনোনীত করা হয়। ফুটবল এবং ক্রীড়াবিশ্বে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গারের সুদূরপ্রসারী প্রভাবেরই যেন প্রতিফলন ছিল এই পুরস্কারটি। ২০০০ সালে এই পুরস্কার চালুর পর ফুটবলার হিসেবে কেবল জুড বেলিংহাম (২০২৪ সালে) এটি জিতেছিলেন; ঠিক তার পরের বছরই ইয়ামাল সেই ধারা বজায় রাখেন।