
প্রতিনিধি 16 January 2026 , 7:43:51 প্রিন্ট সংস্করণ

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ওই এলাকায় মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম, নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুর জাহানকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, পাশাপাশি বাসা হওয়ায় নিহত রোকেয়ার সঙ্গে তার মেয়ের গৃহশিক্ষিকা মীমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মীম ৩টি এনজিও থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। যেখানে গ্যারান্টার ছিলেন নিহত রোকেয়া। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য রোকেয়া চাপ দিতে থাকলে এ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

তিনি জানান, প্রথমে গৃহশিক্ষিকা মীম (২২) ও তার ছোট বোন নুর জাহান মিলে রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমাকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মীম ফোন করে রোকেয়াকে জানায়, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোকেয়াকে গৃহশিক্ষিকা মীমের বাসায় ডেকে আনা হয়।
এরপর রোকেয়া বাসায় প্রবেশ করলে মীম ও নুর জাহান দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করে। হত্যার পর রোকেয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মীম সেই খাটের ওপরেই ঘুমায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুর জাহান এসব তথ্য স্বীকার করেছে বলে জানান।
পুলিশের ভাষ্য মতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মেয়ে ফাতেমা শিক্ষিকার বাসায় প্রবেশ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফাতেমার পরনের পোশাক পরে নুর জাহান ওই বাসা থেকে বের হয়, যাতে মনে হয় ফাতেমা শিক্ষিকার বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি ছিল মীমের ছোট বোন নুর জাহান।