• খেলা

    ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোকে নির্বাচন জেতানোর চুক্তি ছিল

      প্রতিনিধি 9 July 2026 , 6:17:04 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি: সংগৃহীত
    ছবি: সংগৃহীত
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের ভেতরে এবং বাইরে বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। এরমধ্যে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচনা এখন রীতিমতো তুঙ্গে। বিশেষ করে ট্রাম্পের লবিংয়ে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ফুটবল বিশ্বে যখন তীব্র বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, তখনই জানা গেল নতুন এক তথ্য। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফের’ প্রতিবেদন, ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে গোপনে নির্বাচন জেতানোর এক সুদূরপ্রসারী চুক্তি বা ছক কষে রেখেছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।

    বিশ্বকাপে সততা ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক ওঠার আগেই জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পুনরায় ফিফার ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছিল এফএ। জানা গেছে, ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাতে ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে বেশ গোপনে ও সতর্কতার সাথে অনুরোধ করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

    সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিফার এই অনুরোধে রাজি হয়েছিল এবং বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর পরপরই ইনফান্তিনোর পক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র পাঠানোর জন্য সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে রেখেছিল।

    তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্ক ও এর জেরে চলমান ব্যাপক বিতর্কের মাঝে, ওই সমর্থনপত্রটি আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না-তা ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্ট’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এফএ।

    আগামী নভেম্বরেই ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে ভবিষ্যতে পুরুষ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার লড়াইয়ে নামার একটা সম্ভাবনাও তাদের রয়েছে, যেখানে ইনফান্তিনোর সমর্থন পাওয়াটা এফএ-র জন্য অত্যন্ত জরুরি।

    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ফিফার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন এবং আগামী বছরের নির্বাচনে তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়াটা দীর্ঘদিন ধরেই একরকম নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া এই ফুটবল কর্তার বিরুদ্ধে ২০২৭ সালের নির্বাচনে কেউ আদৌ দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েই তীব্র সংশয় রয়েছে; তাঁকে হারানো তো বহুদূরের কথা!

    বিজ্ঞাপন

    এর মূল কারণ, তাঁর নেওয়া ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফুটবল প্রজেক্টে বিপুল তহবিল দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁর মেয়াদে সিংহভাগ জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের-যারা মূলত তাঁর ভোটার-আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ফিফার অধীনে মোট ২১১টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার প্রতিটি দেশেরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। নির্বাচনে জয়ী হতে প্রয়োজন ১০৬টি ভোট। ইতিমধ্যেই গত এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের ১০টি দেশ ইনফান্তিনোকেই সমর্থন করবে। এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) তাদের ৫৪টি সদস্য দেশ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাদের ৪৭টি দেশের পক্ষ থেকে ইনফান্তিনোকে সর্বসম্মত সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সমর্থন ছাড়াই ইনফান্তিনোর ঝুলিতে ইতিমধ্যে ১১১টি ভোট রয়েছে। তা সত্ত্বেও, গত মঙ্গলবার ইউয়েফা নতুন এক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে। ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে ইউয়েফা সাফ জানিয়েছে, ফিফা এবার ‘সব সীমানা বা রেড লাইন পার করে গেছে।’ মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জেরে চলতি সপ্তাহে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ইনফান্তিনোকে নজিরবিহীন ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।

    এই বিতর্ক আরও উসকে যায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বড়াই করে বলেন যে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনের লাল কার্ডের (বহিষ্কারাদেশ) সিদ্ধান্তটি বাতিল করার জন্য তিনি ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করেছিলেন। ইউয়েফা, জার্মানি এবং বেলজিয়াম এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানালেও ইনফান্তিনো তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এফএ-র সঙ্গে তাঁর আপাত মধুর সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পর, তিনি এফএ চেয়ারপারসন ডেবি হিউইটের সাথে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন; যেখানে হিউইট তাঁকে পিঠে ‘Infantino 9’ লেখা একটি ইংল্যান্ডের জার্সি উপহার দিচ্ছিলেন।

    অবশ্য বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এক চরম দুঃস্বপ্ন থেকে বেঁচে গেছেন ইনফান্তিনো। তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফা কর্তৃক বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই ঘটনা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফুটবল বিশ্বে প্রথম বড় ধরণের বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    6:17 PM ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোকে নির্বাচন জেতানোর চুক্তি ছিল 6:04 PM কারানের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে ২৪৭ রানের লক্ষ্য দিলো জিম্বাবুয়ে 5:27 PM মরক্কোতে ওঁৎ পেতে আছে ‘ফ্রান্সেরই’ ৯ জন 5:05 PM ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো 4:22 PM কোয়ার্টারের বাধা টপকে সেমিফাইনালে যেতে পারে যে চার দল 3:04 PM আর্জেন্টিনার ম্যাচে কেন ইংলিশ রেফারি থাকেন না 1:26 PM আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং, আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিলো ফিফা 1:16 PM টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে পরিবর্তন 12:46 PM আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের মতোই রেফারিং চাই: ফ্রান্সের কোচ 12:34 PM ‘নেইমারের কান্না আমার মন ভেঙে দিয়েছে’