
প্রতিনিধি 18 June 2026 , 11:51:10 প্রিন্ট সংস্করণ

দ্য ইন্ডিপেন্ডের শিরোনামটা আপনাকে কষ্ট দিতে পারে কিংবা খুশিও করতে পারে,‘দশজন খেলোয়াড় ও একজন স্ট্যাচু।‘ পর্তুগালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম এভাবেই প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে। ভেতরে বিশ্লেষণ যা তারা পেয়েছে, তাতে স্পষ্টত বার্তা দিয়েছে, পর্তুগালের বিশ্বকাপে একটাই সমস্যা। সেটা হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
বিশ্বকাপের শুরুটা স্বপ্নের মতো হলেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পর্তুগালকে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর বাকি প্রায় ৮০ মিনিটে কার্যত নিষ্প্রভ ছিল পর্তুগাল, ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচের শুরুতে জো নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। গোলের আগে টানা ছয় মিনিটে তারা ৮৪টি পাস সম্পন্ন করে, যেখানে ডিআর কঙ্গোর ছিল মাত্র ১২টি। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকান দলটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে উয়োনে উইসা গোল করে সমতা ফেরান।

ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও গোল তো দূরের কথা, ম্যাচে তেমন কোনো প্রভাবই রাখতে পারেননি তিনি।
রোনালদো ম্যাচে মাত্র তিনটি শট নেন, কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি, ডিফেন্সে কার্যত কোনো অবদান ছিল না। নিখুঁত পাস ও বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সংখ্যাও ছিল পর্তুগালের শুরুর একাদশের মধ্যে সবচেয়ে কমদের একজন।

রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরাসরি সমালোচনা করেননি কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। বরং তিনি দলের অন্য খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তুলেছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা শেষ তৃতীয়াংশে যথেষ্ট ভালো খেলতে পারিনি। স্ট্রাইকারকে সঠিকভাবে বল সরবরাহ করতে পারিনি। রোনালদোর মুভমেন্ট কাজে লাগানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি।’
তবে বাস্তবতা হলো, বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা দীর্ঘ হচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোলহীন তিনি। ওপেন প্লে থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তার শেষ গোল এসেছে প্রায় পাঁচ বছর আগে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পর্তুগাল দলে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নাডো সিলভা, ভিনিতিনহা, রাফায়েল লাও , পেড্রো নেতোর মতো অসাধারণ প্রতিভাবান রয়েছেন। তবুও দলের আক্রমণভাগ যেন এখনও রোনালদোকেন্দ্রিক। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন-পর্তুগাল কি নিজেদের সেরা ফুটবল খেলছে, নাকি এখনও ‘রোনালদোর ফুটবল’ খেলছে?
রোনালদোর অবদান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু বিশ্বকাপ বর্তমানের মঞ্চ, অতীতের নয়। একসময় রোনালদো ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলস্কোরারদের একজন। কিন্তু বয়সের সঙ্গে গতি, প্রেসিং এবং ডিফেন্ডারদের হারানোর ক্ষমতা কমেছে। এখন প্রশ্ন হলো-এই প্রতিভাবান প্রজন্মকে সামনে রেখে পর্তুগাল কি এখনও ৪১ বছর বয়সী এক কিংবদন্তিকে ঘিরেই নিজেদের আক্রমণ সাজাবে?
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর সেই প্রশ্নই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আর পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন কতদূর যাবে, তার উত্তরও হয়তো লুকিয়ে আছে এই প্রশ্নের মধ্যেই।