
প্রতিনিধি 17 June 2026 , 2:53:36 প্রিন্ট সংস্করণ

ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বুধবার চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিকরা। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।
এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ইনজুরির কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়েছে এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের কাঁধে। ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে এটি হৃদয়ের প্রথম ম্যাচ।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে ডানহাতি পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইনের। দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অভিষেক ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে রয়েছেন এই তরুণ পেসার।
২০০৫ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারানোর পর দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে সিরিজ জয়ের জন্য। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেভাগেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। যদিও শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেয়েছিল সফরকারীরা।

ওয়ানডে সিরিজের সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে দলের। নতুন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছে।
অস্ট্রেলিয়াও অবশ্য সহজে ছাড় দিতে রাজি নয়। ওয়ানডে সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচে জয় পাওয়ায় কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া নতুন সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলছে।
চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত স্পিনারদের কিছুটা সহায়তা করে। তাই টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বড় সংগ্রহ গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে চাইবে স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনদের বোলিং পারফরম্যান্সের দিকেও নজর থাকবে সমর্থকদের।
বাংলাদেশ একাদশে রয়েছেন সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, আবদুল গাফফার সাকলাইন, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে আছেন মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), কুপার কনলি, ম্যাট রেনশ, টিম ডেভিড, নিখিল চৌধুরী, জোয়েল ডেভিস, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেন্সার জনসন ও অ্যাডাম জাম্পা।
ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।