
প্রতিনিধি 2 April 2026 , 11:50:21 প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবেন বলে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার আগে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।
শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে? আন্দোলন আমরা করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে আমাদের ১১ দল একত্রে দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব।
জামায়াত আমির আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উনারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। এটা হবে একটা বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে, সংসদীয় বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্য। আমরা বলেছিলাম, জনগণের কাছে যে গণভোটের জন্য রায় চাওয়া হয়েছে, সেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য রায় চাওয়া হয়নি। রায়টা চাওয়া হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য।
তিনি বলেন, জনগণ যে রায়টা দিয়েছে, আমরা ওইটার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই এখানে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা নিয়ে তারা এই প্রস্তাব দিয়ে থাকেন, তাহলে এটা এই সংস্কার সংক্রান্ত বিষয় হবে।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।’
তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন বলে জানান। পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে।
এতে হতাশা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তি। জনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।