
প্রতিনিধি 31 March 2026 , 3:54:55 প্রিন্ট সংস্করণ

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিক নাটকের বহুল জনপ্রিয় চরিত্র কাবিলা। চরিত্রটিতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পান জিয়াউল হক পলাশ। এরপর থেকে কাবিলা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। ভক্তদের ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে তার সফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা অজানা গল্প। একটি বেসরকারি টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো ‘হা-শো’-এর মঞ্চে নিজের জীবনের অজানা কথা শেয়ার করেছেন তিনি।
পলাশ বলেন, আমার জীবনের পুরো গল্পটা বাদ পড়ার গল্প। ২০০৯ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষা দেই। সেবার আমিই একমাত্র অকৃতকার্য হয়েছিলাম। এই একটি ঘটনাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এক করুণ পরিণতির দিকে।

পলাশ জানান, রাজধানী ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ৩ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় তৃতীয় হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই ছেলের অকৃতকার্য হওয়ার খবর সহ্য করতে পারেননি তার মা। ছেলের রেজাল্ট শুনেই ব্রেন স্ট্রোক করেন তার মা। টানা চার বছর ছিলেন কোমায়। সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করে পলাশ বলেন, এই ঘটনার পর স্কুলের বন্ধুদের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। পরের বছর কলেজে উঠি কিন্তু নিয়মিত ছিলাম না। কারণ কলেজের সঙ্গে নিজেকে মানাতে পারছিলাম না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ও ভালো ফলাফল করতে পারেননি। তবে দমে যাননি তিনি। পরবর্তীতে তিতুমীর কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে যুক্ত হন নির্মাণের সঙ্গে। প্রখ্যাত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন। কর্মজীবনে প্রবেশ করে অনেক জায়গা থেকে বারবার বাদ পড়েছেন তিনি।
বিচারকের আসনে বসে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে পলাশ বলেন, আমি মনে করি বাদ পড়ে যাওয়া মানেই জীবনের শেষ না। স্কুল জীবনেই যদি সব শেষ মনে করতাম, তাহলে আজকে বিচারকের আসনে থাকতাম না।