
প্রতিনিধি 3 March 2026 , 1:08:24 প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তাদের স্থাপনায় সামরিক হামলা হওয়ার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক এলএনজির বাজারে। সোমবার ইউরোপের বাজারে এলএনজির দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত অবশ্য এই বৃদ্ধি ৩৯ শতাংশে গিয়ে স্থির হয়।
বিবিসি জানায়, এলএনজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তেলের দামও। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার (৬১ পাউন্ড) স্পর্শ করে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান দক্ষিণাঞ্চলের এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্তত ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবও তাদের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরের খোলা পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে কয়েকটি ইরানি ও চীনা জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্স্ক জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল হয়ে চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে জাহাজগুলোকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরিয়ে পাঠাবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। যদিও রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবু বাজারে এর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার হ্রাস করেছিল। তবে জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে এবং তা স্থায়ী হলে সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।