
প্রতিনিধি 23 April 2026 , 3:36:34 প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংস যেন দুই ভাগে বিভক্ত। শুরুটা ভেঙে পড়ার গল্প, আর মাঝ থেকে শেষটা পুনর্গঠনের। সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, যার সেঞ্চুরিতেই শেষ পর্যন্ত ২৬৫ রানের লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নতুন বলে গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। শূন্য রানে ফেরেন সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অল্প সময়েই স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৬, ম্যাচ তখন পুরোপুরি সফরকারীদের নিয়ন্ত্রণে।
সেই জায়গা থেকে ইনিংসকে নতুন করে গড়ে তোলেন শান্ত ও লিটন দাস। ঝুঁকি এড়িয়ে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন দুজনই। রান তোলার গতি প্রথমে ধীর থাকলেও উইকেট না হারানোই ছিল মূল লক্ষ্য। ধীরে ধীরে তারা ম্যাচের ছন্দ ফিরিয়ে আনেন।

দুজনের জুটিতে আসে ১৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ। লিটন খেলেন ৭৬ রানের ইনিংস। তবে পুরো ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ছিল শান্তর হাতে।
চাপের মধ্যে একদম ক্লাসিক ওয়ানডে ইনিংস খেলেছেন শান্ত। ১১৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় তুলে নেন সেঞ্চুরি। দীর্ঘ সময় পর এই ফরম্যাটে শতক পেলেও তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিপক্বতা, ছিল ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার স্পষ্ট ছাপ। শুরুতে সংযত, পরে প্রয়োজন বুঝে গতি বাড়ানো এই ইনিংসই বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
শতকের পরও কিছুক্ষণ ব্যাট করেন শান্ত, তবে ক্লান্তির প্রভাব দেখা যায় শেষ দিকে। ১০৫ রানে আউট হন তিনি, তখন বাংলাদেশ অনেকটাই নিরাপদ অবস্থানে।
শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও নিয়মিত উইকেট পতনে বড় স্কোরের সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়। তাওহীদ হৃদয় ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ করেন ২২ রান। তবে ইনিংসের শেষ ভাগে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোয় গতি কিছুটা থেমে যায়।
নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৬৫ রান।
কিউইদের হয়ে উইল ও’রোর্ক তিন উইকেট নেন।