
প্রতিনিধি 24 February 2026 , 11:49:37 প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের ঝাড়খন্ডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্তের ঘটনায় সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রদেশের ছত্রা জেলার সিমারিয়ার কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি রাঁচি থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিল বলে ছত্রার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে নিশ্চিত করেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত বিমানটি রাত ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গহিন বনাঞ্চলীয় সিমারিয়ার বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
নিহত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) শুভম খান্ডেলওয়াল।
নিহতরা হলেন বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সভরাজদীপ সিং, রোগী সঞ্জয় কুমার (৪১), ডা. বিকাশ কুমার গুপ্ত, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের সিইও অনন্ত সিনহা জানান, লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমারের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আগুনে দগ্ধ হন তিনি। শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছিল বলে জানায় পরিবার।
রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার বলেন, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে তদন্তের পরেই সঠিক কারণ জানা যাবে।
সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল (ডিজিসিএ) এ সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজের বিচক্রাফ্ট সি৯০ বিমানটির (ভিটি-এজেভি) বারাণসীর প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট পরে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ ও রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ঝাড়খন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা চম্পাই সোরেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘সিমারিয়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ক্রু সদস্যসহ মোট সাতজন ছিলেন।’
শোক প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে দলটি লিখেছে, ‘ঝাড়খন্ডের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের সাতজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে, এটা গভীর দুঃখের বিষয়। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’