
প্রতিনিধি 22 December 2025 , 11:45:28 প্রিন্ট সংস্করণ

আইএল টি-টোয়েন্টিতে শুরুতে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল তার ফর্ম নিয়ে। তবে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। গতকাল রোববার ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সব আলোচনা থামিয়ে দিলেন তিনি।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলতে নেমে শুরুতেই বল হাতে দলের জন্য বড় অবদান রাখেন সাকিব। ভাইপার্সের ওপেনার ফখর জামানকে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আইএল টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন। পরের ধাক্কাটা দেন স্যাম কারানকে ফিরিয়ে। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন তিনি। পুরো স্পেলে একটি বাউন্ডারিও হজম করেননি, সঙ্গে ছিল ১২টি ডট বল।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা এমআই এমিরেটস শুরুতেই বিপদে পড়ে। মাত্র ৫৩ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেই সময়ে ক্রিজে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন সাকিব। ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে খেলেন তিনি। ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ইনিংসের একমাত্র চারটি আসে ম্যাচ শেষ করার শটে।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে সাকিবের হাতে। এটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৪৫তম ম্যাচসেরা পুরস্কার। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি আন্দ্রে রাসেলকে ছাড়িয়ে যান এবং অ্যালেক্স হেলস ও রশিদ খানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ম্যাচসেরার তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান নেন।
টি-টোয়েন্টিতে ৪৬৫ ম্যাচ খেলে ৪৫ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব। একই সংখ্যক ম্যাচসেরা পেতে রশিদ খান ও অ্যালেক্স হেলসকে খেলতে হয়েছে ৫০০-এর বেশি ম্যাচ। এই তালিকায় সাকিবদের ওপরে আছেন শুধু তিনজন-৪৮ বার ম্যাচসেরা হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও কিয়েরন পোলার্ড এবং ৬০ বার ম্যাচসেরা হয়ে শীর্ষে থাকা ক্রিস গেইল।
গত বছরের আগস্টে সিপিএলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব। এরপর সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তেমন সাফল্য পাননি তিনি। সেই জায়গা থেকেই আইএল টি-টোয়েন্টিতে এই পারফরম্যান্স সাকিবের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, উইকেট স্পিনারদের সহায়ক ছিল এবং ব্যাটিং সহজ ছিল না।