• আন্তর্জাতিক

    আমিরাত-ইসরায়েল, গঠন করল যৌথ অস্ত্র তহবিল

      প্রতিনিধি 20 May 2026 , 2:55:24 প্রিন্ট সংস্করণ

    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা যৌথভাবে ক্রয় ও উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে দুই দেশ। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটি আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক দুই কর্মকর্তা।

    মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় ইউএই ও ইসরায়েল যৌথভাবে অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নেও অর্থায়ন করতে পারে আবুধাবি।

    সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউএই সফর করলে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। যদিও সফর নিয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেও পরে আবুধাবি তা অস্বীকার করে। সোমবার (১৮ মে) মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি দূতাবাস সংবাদমাধ্যমটির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

    যৌথভাবে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
    মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশ যৌথভাবে কাউন্টার-আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেমস (সি-ইউএএস) এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করবে। এই তহবিলে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এটি শুধু আকাশ প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    তেল আবিবভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়োয়েল গুজানস্কি বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আরব দেশের এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আগে কখনও ছিল না। ইসরায়েলের প্রযুক্তি আছে, কিন্তু অর্থের ঘাটতি রয়েছে। ইউএইর অর্থ আছে, কিন্তু প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। তাই এটি দুই দেশের জন্যই এটি যৌক্তিক সহযোগিতা।’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায় তেহরান। এতে ইউএই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির ওপর প্রায় ৩ হাজার ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল ইউএইতে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা মোতায়েন করেছিল বলে মে মাসে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি নিশ্চিত করেন।

    বিজ্ঞাপন

    প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগ
    প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইউএইর প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স খালেদ বিন মোহাম্মদ আল-নাহিয়ান সম্প্রতি প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। ২০২৫ সালের জুনে ইউএইর প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এজ গ্রুপ ইসরায়েলের ড্রোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থার্ডআই সিস্টেম-এ ৩০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করার সক্ষমতা ছিল ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির সমর্থকদের দ্বারা প্রচারিত অন্যতম প্রধান সুবিধা, যার মাধ্যমে এই উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার?
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অংশীদার খুঁজছে ইসরায়েল। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ২১ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে ওয়াশিংটন।

    প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হাইকেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। ইউএইর কাছে অর্থ রয়েছে, তাই ইসরায়েল তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে।’

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানে বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কাতার সকলেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর তারা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে। সৌদি আরব ও ইউএই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিলেও পরে সৌদি আরব পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ইউএই নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখতে চাপ দিয়েছে।

    আবুধাবি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, এই যুদ্ধের শেষে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরাশ মাকসাদ এমইই-কে বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিই করুক না কেন, তার দায়ভার তাদের ওপরই বর্তাবে। এই চুক্তিটি মূলত পারমাণবিক বিষয় এবং এটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।’

    ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার পদক্ষেপটি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বেমানান। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বলয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগের জবাবে সৌদি আরব পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।

    এদিকে সোমবার রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। মাকসাদ এমইই-কে বলেন, ‘আমিরাতিরা সৌদি-পাকিস্তান কাঠামোর অংশ হবে না। ইরানিদের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য তাদের হাতিয়ার হলো ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক যত বেশি বৈরী হবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের তত কাছাকাছি আসবে এবং নিরাপত্তা সম্পর্কগুলো আরও জোরদার করবে তারা।’

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    5:03 PM তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পও হাতে নেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী 4:49 PM গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণের অপরাধে আজীবন নিষিদ্ধ কোচ 4:22 PM এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড 2:55 PM আমিরাত-ইসরায়েল, গঠন করল যৌথ অস্ত্র তহবিল 1:37 PM ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা, ১৭ দিনে ‘দোলা রে দোলা’ গানের শুটিং করেন মাধুরী 1:08 PM পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা 12:32 PM বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়; প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন 12:10 PM ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল 11:52 AM দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী 11:39 AM পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস