
প্রতিনিধি 14 April 2026 , 3:07:07 প্রিন্ট সংস্করণ

রমনা বটমূলে ২০০১ সালের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলা মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য এখনো অপেক্ষা করছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ।
গত বছর ১৩ মে হাইকোর্ট এ মামলার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করলেও পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশ হয়নি।
হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। অন্যদিকে, নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উল্লাহ জুয়েলের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া, আরও ৯ আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মুফতি হান্নানসহ তিন আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের ক্ষেত্রে মামলা অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং দ্রুত আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় এখনো আপিল করা হয়নি; রায় প্রকাশের পরই তারা আপিল করবেন।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, রায়ের লিখন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ এবং চলতি মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ২৩ জুন নিম্ন আদালত আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেঞ্চে চললেও শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে।
এদিকে, একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি এখনো বিচারাধীন। বর্তমানে এটি ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন সবার দৃষ্টি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের দিকে।