
প্রতিনিধি 12 March 2026 , 11:43:51 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিন ইরানের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার দায় চাপিয়েছিলেন ইরানের ওপর। এবার খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।
বুধবার (১১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত (টার্গেটিং) ভুল। বিদ্যালয় ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার সময় এই ঘটনা ঘটে।
মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে মেয়েদের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৭৫ জন, যাদের প্রায় সবাই শিশু।

এদিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, ট্রাম্প গত শনিবার বলেছেন, ইরানে স্কুলে হামলায় যে ১৭৫ জন শিশু হত্যা করা হয়েছে, তা ইরান করেছে। এখন মার্কিন সেনাবাহিনী স্বীকার করছে যে, সেটা ছিল আমেরিকার আক্রমণ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার নিশানা তথা লক্ষ্য নির্ধারণে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্ভবত কয়েক বছর আগের মানচিত্র বা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি মার্কিন ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বিদ্যালয় ভবনটিতে আঘাত হেনেছে।
এ ছাড়াও তদন্তে দেখা গেছে, আক্রান্ত বিদ্যালয়টি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি কম্পাউন্ডের খুব কাছে অবস্থিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী ওই সামরিক কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে ভুল তথ্যের কারণে স্কুলটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফেলে।
এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। তবে সামরিক তদন্তের মোড় ঘুরে যাওয়ায় তিনি এখন সুর নরম করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, আমেরিকা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।