
প্রতিনিধি 12 May 2026 , 6:37:43 প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনী আবার ইরানে হামলা চালালে তারা তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদকে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় অর্থাৎ পারমাণবিক বোমার মাত্রায় সমৃদ্ধ করবে। সাম্প্রতিক আলোচনার অচলাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনার সময়েই এল এমন হুমকি।
মঙ্গইরানের সংসদীয় কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এক্সে দেয়া একটি পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আরেকটি হামলার ক্ষেত্রে ইরানের অন্যতম একটি বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংসদে বিষয়টি পর্যালোচনা করব।’
ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম সমস্যা
ট্রাম্প তেহরানের ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে তার পছন্দের যুদ্ধের পেছনে একটি মূল কারণ হিসেবে ইরানের নিউক্লিয়ার ডাস্টকে (ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে তিনি এই নামে অভিহিত করেন) উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।
এই সপ্তাহের শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মজুত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি গুরুতরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’ সোমবার ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।’ এর আগে তিনি ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।
এই বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, ইরানের পাল্টা প্রস্তাবে তাদের কিছু উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে লঘু করার এবং বাকি অংশ কিছু সময়ের জন্য একটি তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত আট বছরে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ইরান ২২ হাজার পাউন্ড বা ১১ হাজার কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে।
ইরান মূলত ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং দাবি করে যে এর উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ। জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে এই মজুত বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে তেহরান ঘোষণা করে যে গবেষণা চুল্লির জন্য জ্বালানি তৈরি করতে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করে, ইরানের মজুত থাকা ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশ স্তর থেকে খুব কাছেই। ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব বাড়ার সাথে সাথে এর সমৃদ্ধকরণ ক্রমশ সহজ হয়ে যায়। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য এটি খুব কাছের কাঙ্ক্ষিত স্তর।
২০২১ সালের জুন মাসে, ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি একটি মন্ত্রীসভার বৈঠকে স্বীকার করেছিলেন, তেহরান তার পারমাণবিক চুল্লিগুলো প্রয়োজনে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে।
ইরানের ইউরেনিয়াম কোথায়?
ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য একটি রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। আইএইএ মনে করে, ইরানের বেশিরভাগ ইউরেনিয়াম সম্ভবত এখনও তার ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সেই রয়েছে। স্থাপনাটি গত বছরের জুনে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং চলতি বছরে ফের মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণেরও শিকার হয়েছিল।
সূত্রঃ এনডিটিভি