
প্রতিনিধি 11 April 2026 , 5:56:51 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে ইরান। শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রতিনিধিদল। তাদের উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় চারটি বিষয়কে অত্যন্ত কঠোরভাবে (রেড লাইন) দেখানো হয়েছে। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে কোনো চুক্তিতে পৌছাবে না বলেও সতর্ক করেছে ইরান।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে শেহবাজ শরিফের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে শান্তি আলোচনার জন্য ইরানের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইরানের পাঠানো প্রস্তাবে যেসব ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে আছে হরমুজ প্রণালির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান, ইরানের জব্দকৃত সকল সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
তবে শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো দেশই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা মন্তব্য করেনি। মধ্যস্থতাকারী হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনার বিষয়ে গোপনীয়তা বেশ কঠোরভাবে রক্ষা করছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।
ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন শেহবাজ শরিফ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই আলোচনাকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ‘চূড়ান্ত সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেশগুলো আলোচনার টেবিলে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছে। আর এই আলোচনার আয়োজন করা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্বের মুহূর্ত।