
প্রতিনিধি 4 March 2026 , 5:34:50 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়ে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সহিংস অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্যে সারা দেশে নতুন করে অপরাধীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানায়, অপরাধীদের নতুন তালিকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অস্ত্র লুটকারী, পেশাদার চাঁদাবাজ ও অপহরণকারীদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তালিকায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, খুনি, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে। এ ক্ষেত্রে মৃত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে। কাউন্টার টেরোরিজম ও অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে জেল পলাতক জঙ্গিদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধজনিত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে এসব অস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা একাধিকবার পাওয়া গেছে। অস্ত্র লুটকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালিকা প্রণয়নে জেলা পর্যায়ে ডিএসবি ও সাদাপোশাকের সদস্যরা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছেন। যাচাই-বাছাই শেষে শুরু হবে গ্রেপ্তার অভিযান। রাজধানীসহ অন্যান্য মহানগর এলাকায় ডিবি পুলিশও থানা লুটকারীদের তালিকা ধরে তথ্য সংগ্রহ করছে।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্র জানায়, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও গণপিটুনির মতো ঘটনার তথ্য নিয়ে তারা আগে থেকেই কাজ করছে। হালনাগাদ তালিকা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হবে।
এবারের তালিকায় নতুন মুখের পাশাপাশি পুরোনো দাগি আসামিদের সক্রিয় হওয়ার তথ্যও যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের বর্তমান সময়ের জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের তালিকা আগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাত-দিন দুর্ধর্ষ ছিনতাইও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পূর্ববিরোধ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার ঘটনাও তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, ডিএমপির আইএডি ও ডিবি শাখা থেকে গোপনে প্রস্তুত করা তালিকা আমাদের কাছে পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে শীর্ষ চাঁদাবাজ কাইল্লা ফারুক ও গ্যারেজ সোহেলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে কেউ অপরাধে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন নির্দেশনায় যে সাঁড়াশি অভিযান আসছে, আমাদের ডিসি মহোদয়ের নির্দেশে সুপরিকল্পিতভাবে সেই অভিযান পারিচালনা করা বলেও জানান তিনি।