• রাজনীতি

    ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি

      প্রতিনিধি 24 January 2026 , 6:38:13 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি: ক্যাপ্টেন্স টিভি
    ছবি: ক্যাপ্টেন্স টিভি
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। ঢাকা-১৪ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ০৭,০৮,০৯,১০,১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা-১৪ হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি ঢাকা জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৮৭নং আসন।

    ১৯৮৩ সালের ৮ মার্চ জন্ম নেওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি পেশায় একজন গৃহিনী, মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক । তিনি রাজধানীর শাহীনবাগ,তেজগাঁও (মিরপুর) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সানজিদা ইসলাম তুলির পিতা হাজী মফিজুল ইসলাম ও মাতা হাজেরা খাতুন । তার স্বামী মোহাম্মাদ জামাল আফসার একজন বেসরকারী চাকুরিজীবি। তার একমাত্র কন্যা সন্তান বারজাহ জাইশা আফসার।

    ঢাকা-১৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি মূলত নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত, সানজিদা ইসলাম তুলি একজন মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক। তিনি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন।

    মানবাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি কর্পোরেট নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করে আসছেন।

    ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থেকে গুম হন তৎকালীন বিএনপি কর্মী সাজেদুল ইসলাম সুমন। ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তুলি যুক্ত হন গুম–বিরোধী আন্দোলনে এবং ধীরে ধীরে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এক সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।

    তিনি মানবাধিকারকেন্দ্রিক নানা আন্তর্জাতিক ফোরাম ও গণমাধ্যমে গুমের শিকার পরিবারের পক্ষে কথা বলেছেন। বিশেষ করে “মায়ের ডাক” সংগঠনটি তাঁর নেতৃত্বে পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে জনসমক্ষে টেনে আনে। মায়ের ডাক প্ল্যাটফর্মটি মূলত  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত যেহেতু বেশিরভাগ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর এই দলের সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমনকি তারা বাংলাদেশে প্রতি বছর “আন্তর্জাতিক গুপ্তহত্যার শিকার দিবস” পালন করে।

    সানজিদা ইসলাম তুলী তাঁর শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। এর আগে তিনি বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ২০০০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক- উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তাঁর এই শিক্ষাগত ভিত্তি তাঁকে পেশাগত দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ করেছে, যা পরবর্তীতে কর্পোরেট নেতৃত্ব ও মানবাধিকার আন্দোলন-উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    মানবাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি সানজিদা ইসলাম তুলির কর্পোরেট অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যবস্থাপনা, দল গঠন, আলোচনার দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি সংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন পরিচালনায় সহায়তা করেছে।
    তিনি বিশ্বাস করেন-কার্যকর নেতৃত্ব মানে শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা। তিনি কর্পোরেট অভিজ্ঞতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক -গ্লোবাল অ্যাপারেল নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ বিজনেস ইউনিট ম্যানেজার -মার্কস এন্ড স্পেন্সার ও বাংলাদেশ বিজনেস ইউনিট টিম লিডার- মার্কস এন্ড স্পেন্সার এবং বাংলাদেশ সহকারী মার্চেন্ডাইজার – অপেক্স গ্রুপ (ক্রেতা: চার্মিং সোপিস ইনকর্পোরেটেড)।

    বিজ্ঞাপন

    সানজিদা ইসলাম তুলী কর্মসূচিগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। এগুলো মানুষের বাস্তব সমস্যা, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে পরিকল্পিত উদ্যোগ। তিনি মনে করেন – রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে তুলে ধরা, সাক্ষ্য ও তথ্য সংরক্ষণ করা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভয় নয়, সত্যকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়।

    গুম ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটায়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সংযোগ তৈরি করা হয়, যাতে তারা একা না থাকে এবং তাদের কষ্ট রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে দৃশ্যমান হয়।গণতন্ত্র ও মানবাধিকার টিকে থাকে সচেতন নাগরিকের মাধ্যমে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, আলোচনা সভা, উঠান বৈঠক এবং জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যাকে নীতিগত আলোচনায় নিয়ে আসাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

    নারী নিরাপত্তা ছাড়া কোনো মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। সানজিদা ইসলাম তুলী  এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এবং সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানো হয়। লক্ষ্য হলো নারীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে কথা বলার ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।তরুণরা এই দেশের ভবিষ্যৎ। ভয়, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা তাদের স্বপ্নকে সংকুচিত করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার, নাগরিক দায়িত্ব ও নেতৃত্ব বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়।

    পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-এই মৌলিক সেবাগুলো মানুষের অধিকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিক সেবায় অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হয়।গুম ও সহিংসতার ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়-এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্মৃতি, সাক্ষ্য ও নথি সংরক্ষণ করা হয়। এটি শুধু অতীতের দলিল নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নৈতিক সাক্ষ্য, যা দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকে।

    দেশের ভেতরে ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরা এই কর্মসূচির অংশ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলা হয়।এই কর্মসূচিগুলো চলমান ও বিকাশমান। মানুষের প্রয়োজন, সময়ের বাস্তবতা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এগুলো আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হবে। লক্ষ্য একটাই-একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও ভয়মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।

    হলফনামার সম্পদের বিবরণ

    সানজিদা ইসলাম তুলির হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তুলির মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বেশি। তার মালিকানায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি গাড়ি রয়েছে। কোনো কৃষিজমির তথ্য দেননি। নিজের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা, যা মূলত সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত। নির্ভরশীল হিসেবে তার স্বামীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা।

    তুলি জানিয়েছেন, তার নিজের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৮৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৬২ টাকা। তার স্বামীর কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪১ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ২০ লাখ ৫৪৭ টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ তুলির নিজের নামে ১০ ভরি এবং স্বামীর নামে ১০ ভরি। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৮৮ হাজার ৫৭৫ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। তার নামে কোনো ব্যাংকঋণ বা আর্থিক দায় নেই।

    হলফনামায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৯৫(এ) ধারায় একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

    এদিকে ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    12:19 PM ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রথমবার চালু হলো ইকোকার্ডিওগ্রাম সেবা 11:46 AM মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিসিবির কড়াকড়ি 11:11 AM কুমিল্লা-১০: গফুর ভূঁইয়ার দায়ের করা লিভ টু আপিল খারিজ 11:02 AM পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, বেসামরিকসহ নিহত ১২৫ 10:10 AM আপিলও খারিজ, নির্বাচন করতে পারছেন না মঞ্জুরুল আহসান 9:31 AM ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু 9:01 AM আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল 8:33 PM ইসির ওয়েবসাইট থেকে ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস 8:23 PM সেন্টমার্টিনে টানা ৯ মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা 8:12 PM সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল: ভুটানকে ১২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ