
প্রতিনিধি 10 January 2026 , 4:58:01 প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন-ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের হার হঠাৎ কমিয়ে আনা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তার মতে, সুদের হার একদিকে কমালে অর্থনীতির অন্য খাতে চাপ তৈরি হয়, যা সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ৬-৯ সুদহার নীতি তুলে নেয়ার পর বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় ঋণের সুদ ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বিনিয়োগ প্রবণতা কমেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলিয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তবে সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘সুদের হার একেবারেই কমেনি, এমনটি নয়। ট্রেজারি বিলের সুদ ইতিমধ্যে কমেছে এবং এর প্রতিফলন ধীরে ধীরে বাজারে দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেজারি বিলের সুদ ১২ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ১০ শতাংশে এসেছে। যারা এই বাজারে যুক্ত, তারা সেটা বুঝতে পারছেন। তথ্যের প্রতিফলন হয়তো এখনো পুরোপুরি বাজারে আসেনি’।
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার সময় ব্যাংকিং খাত ছিল চাপের মধ্যে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংকের প্রভিশনিং ও ঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যাংকিং অ্যালমানাকের তথ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে’। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন-সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন-অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের সচিব নাজমা মোবারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষাবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা শিক্ষাবিচিত্রা ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ প্রকাশ করে আসছে।