
প্রতিনিধি 6 May 2026 , 12:02:26 প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান। আবারও ইউরোপের সেরা মঞ্চের ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
মঙ্গলবার (৫ মে) উত্তর লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি খুব একটা আক্রমণাত্মক ছিল না। দু’দলই শুরু থেকেই নিজেদের রক্ষণভাগ গুছিয়ে রেখে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ফলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের বদলে ম্যাচজুড়ে দেখা গেছে কৌশল আর ধৈর্যের লড়াই। তবে এমন ম্যাচও দিন শেষে রূপ নেয় উৎসবে, যখন জয় পায় কাঙ্ক্ষিত দল।
প্রথমার্ধ থেকেই বল দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। একের পর এক আক্রমণ গড়লেও শেষ মুহূর্তে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না দলটি। অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ভিক্টর গিওকেরেস বল বাড়ান, সেখান থেকে শট নেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। তার শট ঠেকালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি ইয়ান ও’ব্লাক। ফিরতি বলে সুযোগ পেয়ে যান বুকায়ো সাকা, কাছ থেকে সহজ ট্যাপ-ইনে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে অ্যাথলেটিকো। ৫১ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি গিলিয়ানো সিমিওনে। ওই সময় ফাউলের অভিযোগ তুলে পেনাল্টির দাবিও ওঠে, কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি তাতে সাড়া দেয়নি। কিছুক্ষণ পর অঁতোয়ান গ্রিজমানের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
মাঝে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল আর্সেনাল। ৬৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বল পেয়ে যান ভিক্টর গিওকেরেস, তবে তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ দিকে ৮৩ মিনিটে আরেকটি বড় সুযোগ পায় অ্যাথলেটিকো, কিন্তু আলেকজান্দার সরলথ লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।
এরপর আর কোনো গোল হয়নি। বৃষ্টিভেজা রাতে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে এমিরেটস স্টেডিয়াম। খেলোয়াড় থেকে সমর্থক সবাই মেতে ওঠে ঐতিহাসিক এক জয়ের আনন্দে।
প্রথম লেগ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। সেই সমতায় এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয় লেগের জয় আর্সেনালকে পৌঁছে দেয় ফাইনালে। ক্লাবটির ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। এর আগে ২০০৬ সালে শেষবার এই মঞ্চে খেলেছিল তারা।
এবার ৩০ মে বুদাপেস্টে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা প্যারিস সেন্ট জার্মেইন।