
প্রতিনিধি 21 March 2026 , 2:37:34 প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ, প্রাণহানি আর নানা শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কারণে এবারের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। তেহরান থেকে বৈরুত, রিয়াদ থেকে দোহা-সবখানেই এখন হামলার আতঙ্ক। এর মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বড় একটি অংশে আজ ঈদ করছেন মুসলমানরা।
এদিকে, আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের দিনেও ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে ঈদের আনন্দ। এরপরও বোমা হামলা আর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের আতঙ্কের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কামনা করা হয়, শান্তি ও সমৃদ্ধির। যদিও ইরানে হামলার জেরে সৌদি আরবের মার্কিন ঘাটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইসরায়েল ধ্বংস করে দেয়া গাজা উপত্যকার সারায়া স্কয়ারে ধ্বংসস্তপের মাঝেই ঈদের নামাজে শামিল হন শত শত ফিলিস্তিনি। শোকাতুর পরিবেশে তাদের প্রার্থনা ছিল ইসরায়েলি শৃঙ্খল থেকে মুক্তির।

আত্তা আল-বানা নামে এক মুসল্লি বলেন, এ বছরটি বিগত বছরগুলো থেকে আলাদা। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়, গত দুই বছর আমরা ঈদ করতে পারিনি।
একই চিত্র জেরুসালেমেও। আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ফলে বাধ্য হয়ে এভাবেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন ফিলিস্তিনিরা। সেখানেও মুসল্লিদের ওপর নিক্ষেপ করে টিয়ারশেল।
জেরুজালেমের বাসিন্দা আয়মান শুয়ায়েকি বলেন, আমরা আল-আকসা মসজিদের দরজার সামনেই নামাজ আদায় করবো। এখানে আমরা নামাজ পড়তে এসেছি লড়াই করতে আসিনি। ঈদের নামাজ আদায় করা আমাদের অধিকার।
এদিকে ইসরায়েলের আক্রমনের শিকার লেবাননেও উদযাপিত হয়েছে ঈদ। তবে আনন্দ নয়, চোখে মুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। কারণ, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ১ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ এবার পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। সিডনির লাকেম্বা মসজিদে ঈদের নামাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ। গাজা ও ইসরায়েল ইস্যুতে তার অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন মুসল্লিরা। বিক্ষোভকারীরা তাকে ‘গণহত্যার সমর্থক’ বলে স্লোগান দিয়ে মসজিদ ত্যাগের আহ্বান জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে খুব বেশি কিছু নয় উল্লেখ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।