
প্রতিনিধি 14 March 2026 , 12:58:19 প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল তদন্তে নেমেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টায় তারা কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তদলে ছিলেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।
এর আগে ১৩ মার্চ রাতে গণমাধ্যমে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরের দিন সকালে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের তদন্ত দল ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে কুর্মিটোলা ডিপোতে যায়।
তদন্ত দলের সদস্যরা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হয়। ডিপোতে থাকা তেল পরিমাপের মাধ্যমে তেলের অভ্যন্তরীণ হিসাবের সঙ্গে মিলানো হয়। এ সময় ডিপোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথাও বলেন পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা।
তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ ও ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর সকাল থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনো এটি চলমান আছে। আমরা সবকিছু মিলিয়ে দেখছি।”
জানা গেছে, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কারণে দুর্বৃত্তরা এটিকে অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে। খোঁজে দেখা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়ি নম্বরগুলো হলো ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। কাগজে-কলমে এ গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তেল অন্যত্র পাচার করা হয়।
পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেট একই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সাইদুলের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ পূর্বেই ছিল। গত বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা অয়েল কতৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছিল।
এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল, তবে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে পারেনি। পরবর্তীতে ৮ মার্চ পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হয়। ওই সময় তেল চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।