
প্রতিনিধি 21 February 2026 , 8:44:40 প্রিন্ট সংস্করণ

‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না।’
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যেশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ শুধু আন্দোলনে নয়, কর্মক্ষেত্রেও দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়াব না এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীক। ভাষা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার। সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ত্যাগ ও সংগ্রাম ছাড়া কোনো জাতি অধিকার অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়েও অধিকার আদায়ে আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পেয়েছেন এটাই বড় প্রাপ্তি।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাষার মধ্যেই জ্ঞান গঠিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা ও গণিতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভাষা ও গণিতে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হয় না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা হলো রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন দাঁড় করে লাভ নেই। তাই শিক্ষার অবকাঠামো মজবুত করাই সবার দায়িত্ব। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সেটি হচ্ছে— ‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’।