
প্রতিনিধি 15 February 2026 , 12:12:17 প্রিন্ট সংস্করণ

মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যা হয়ে ওঠে স্নায়ুযুদ্ধ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তবে সাম্প্রতিক আইসিসি ইভেন্টগুলোতে নেই সেই চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একপাক্ষিক আধিপত্যে রেকর্ড বই নতুন করে লিখছে টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের আগে হম্বিতম্বি করলেও, মাঠে বরাবরই ফিকে পাকিস্তান।
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘ব্লকবাস্টার’। যার উত্তাপ গ্যালারি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের ড্রয়িং রুমে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই যেন সময় থমকে যাওয়া। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যেখানে শুরু হয়ে যায় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। যেন শ্রেষ্ঠত্বের এক অলিখিত সনদ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসি ইভেন্টের পরিসংখ্যানে তাকালে রোমাঞ্চের চেয়ে আধিপত্যের গল্পই বেশি চোখে পড়ে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের আধিপত্য অনেকটা প্রশ্নাতীত। সবশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল রোহিত শর্মার দল। আইসিসি ওয়ানডে ইভেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ের মাটিতে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে ১০ উইকেটের জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। সেটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম জয়।
কিন্তু ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নের সেই মেলোড্রামা কি ভোলা সম্ভব? কোহলির সেই অতিমানবীয় ইনিংস পাকিস্তানের জয় কেড়ে নিয়েছিল শেষ মুহূর্তে।
সবশেষ ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিউ ইয়র্কের কঠিন পিচে কম রানের পুঁজি নিয়েও জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের ব্যর্থতা আবারও প্রকট হয়ে ওঠে বড় আসরে।
আইসিসি ইভেন্টে ভারতের ব্যাটিং গভীরতা আর পাকিস্তানের বোলিং ইউনিটের লড়াই চিরকালই ক্লাসিক। তবে শেষ কয়েক বছরে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ভারতের জয়ের পথকে অনেকটা সহজ করে দিচ্ছে।
এবারের লড়াইয়ের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ভেন্যু জটিলতা আর হাইব্রিড মডেল নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশ ইস্যুতে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়ে উত্তেজনা চরমে তোলে পাকিস্তান। তবে, অনেক সংশয় আর নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াচ্ছে এই ম্যাচ। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্বের আবহাওয়া দেখা গেলেও, সীমান্তের দুই পাড়ে চাপটা পাহাড়সম।