
প্রতিনিধি 7 January 2026 , 11:45:32 প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সংঘটিত সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে তাঁর পরিবার। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলাটি দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর মা-বাবা।
বিচার নিয়ে মা-বাবার আকুতি: ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাইছি। আজও সীমান্তে মানুষ পাখির মতো মারা যাচ্ছে। ফেলানীর বিচার হলে আর কোনো বিএসএফ সদস্য কাউকে গুলি করার সাহস পেত না।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মৃত্যুর আগে তিনি নিজের চোখে মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান।
মা জাহানারা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত বিচার পেলাম না। ১৫ বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষাই করছি।’

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। গুলিবর্ষণের পর ফেলানীর মরদেহ কয়েক ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকার সেই বীভৎস দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী ছিল মা-বাবার আট সন্তানের মধ্যে সবার বড়। ভারতে সপরিবারে বসবাস করলেও বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথেই সীমান্তে প্রাণ হারায় সে।
২০১৩ সালে বিএসএফের বিশেষ আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে আদালত অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। পরবর্তী সময়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পুনর্বিচার শুরু হলেও সেখানে একই রায় বহাল রাখা হয়। এরপর ২০১৫ সালে ভারতের উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের আশায় রিট আবেদন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আজও হয়নি।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি বন্ধে এবং ফেলানী হত্যার বিচার নিশ্চিতে দুই দেশের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় আছে শোকাতুর পরিবারটি।