
প্রতিনিধি 13 December 2025 , 8:41:10 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে’। ‘ষড়যন্ত্র থেমে নেই-চলছে, আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, এ ছাড়াও নির্বাচন অতো সহজ হবে না’। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “এখন আমাদের সময় এসেছে, আমি কি পেলাম… এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে, আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। সময় এসেছে, নিজে কী পেলাম, এটা ভুলে যাওয়ার। আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কি দিতে পারলাম, কি দিচ্ছি দেশ এবং জাতিকে…তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি, এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা’।
এ ছাড়াও ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তম দিনের এই আয়োজনে বিএনপির মাঠ পর্যায়ে নেতাদের উদ্দেশে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, “এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ।
“বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন, ৩টি বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনশাল্লাহ আমি পাবো। দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সাথে ভোটের ময়দানে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন-বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আর সঞ্চালনা করেন-দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানি দুষণ রোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো এবং সেসব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘যে কথাটা আমি আগে বলেছিলাম যে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে চলন্ত রিকশায় গুলি করা হয়। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার আগে ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ জনসংযোগ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে একজন নিহত হন। এরশাদ উল্লাহসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ঘটনা, গত কালকের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর উপরে গুলিবর্ষণের ঘটনা, এই সবকিছু নিয়েই কিন্তু প্রমাণিত হচ্ছে যে, যা আমি বলছিলাম-তা কিন্তু সত্য হচ্ছে আস্তে আস্তে’। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আনি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে,” বলেন তারেক রহমান।
প্রত্যেকবার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেকবার এই দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছে, প্রত্যেকবার আপনারা, কখনো শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, আস্তে আস্তে সেই খাদের কিনারা থেকে দেশকে আবার বের করে নিয়ে এসেছেন’। বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে থাকবে না। আরও খারাপও হতে পারে’।
“আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আমাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। আমাদেরকে মানুষদের সাহস দিতে হবে, আমাদের নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। “আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হবো, আমরা যত সামনে এগিয়ে আসবো, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে…এই পরিস্থিতি যত আমরা তৈরি করবো, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের সময় এসেছে, আমি কি পেলাম… এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে, আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। সময় এসেছে, নিজে কী পেলাম, এটা ভুলে যাওয়ার। আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কি দিতে পারলাম, কি দিচ্ছি দেশ এবং জাতিকে…তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি, এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা।”