
প্রতিনিধি 29 November 2025 , 4:43:53 প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরে যারা লুটপাট, চুরি এবং ব্যাংক ডাকাতি করেছেন, তাদের ধরা হোক এবং শাস্তি দেয়া হোক। তবে লুটপাটকারীদের যে শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তার ফলে যে ১৪ লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেলেন, তাদের কী হবে? তিনি মনে করেন, এই বেকারত্ব সৃষ্টি না করে বরং এই কারখানাগুলোকে কীভাবে আবার চালু করা যায়, সেটাই সরকারের দেখা উচিত। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে ২০২৫’ তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি যদি বিএনপির রেকর্ড দেখেন, অতীতে প্রত্যেকটি সময় যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশ পরিচালনা দায়িত্ব পেয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অর্থনীতিতে। বিএনপি সব সময় চায় সাধারণ মানুষগুলো যেন ভালো থাকে, আমাদের কৃষকেরা যেন ভালো থাকে, তার সমস্যার সমাধান যেন করা যায়, আমাদের শ্রমিকেরা যেন তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পায় এবং অর্থনীতিতে যেন স্টেবিলিটি একটা স্থিতি অবস্থা থাকে এবং ম্যাক্রো ইকোনমিক্সটা যেন শক্তভাবে দাঁড়ায়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আসলে চিন্তাভাবনাটাও পরিবর্তন করা দরকার। ব্যবসায়ীদের যদি আমরা বিশ্বাসই না করি তাহলে তারা ব্যবসা করে আমাকে কি দেবে? এই বিষয়গুলো আমার মনে হয় খুব জরুরি।
ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কৃষকদের প্রচুর উৎপাদনশীলতা আছে। আমরা যদি তাদের ঠিকমতো সাহায্য করতে পারি, তাদের সার, বীজ এবং সেচ যদি ঠিকমতো পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা এই জায়গাতে আরও অনেক বেশি অর্জন করতে পারব। আমাদের আরেকটা বিষয়ে খুব বেশি লক্ষ্য করা দরকার। যেটা আমরা ইতোমধ্যে চিন্তা করেছি স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেক বেশি কাজ করা দরকার। আমাদের জনগণের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজানো দরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে তৈরি এই দল। জিয়াউর রহমান সাহেবের যে মূল বিষয়গুলো ছিল, তিনি কথা বলতেন কম, কাজ করতেন বেশি। তিনি একটি পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন। ১৯৭৫ সালে যখন পট পরিবর্তন হল, সে সময় অনেকে ভেবেছিলেন বাংলাদেশ বোধহয় ডুবেই যাবে। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব দেশকে টেনে ওপরে তুলেছিলেন।