
প্রতিনিধি 30 June 2026 , 12:52:39 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। রাউন্ড অব ৩২-এ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অতিরিক্ত সময়ে বাতিল হওয়া একটি গোল। অনেকের মতে, সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলের লড়াই ছিল ১-১ সমতায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে শক্তিশালী হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ। মাঠের রেফারি জালাল জায়েদ প্রথমে গোলের স্বীকৃতি দেন। জার্মান খেলোয়াড়েরা তখন উদ্যাপনও শুরু করে দিয়েছিলেন।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। রিপ্লে দেখে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে জার্মানির ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দিয়েছেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গোল বাতিল করেন রেফারি।
সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি জার্মানির খেলোয়াড়েরা। মাঠেই প্রতিবাদ জানান জোসুয়া কিমিখসহ কয়েকজন ফুটবলার। সাইডলাইনে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং খেলা আবার শুরু হয়।
গোল বাতিলের ঘটনাটি নিয়ে ম্যাচ শেষে ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অনেক সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকের মতে, গোলরক্ষকের সঙ্গে হওয়া সংস্পর্শটি ছিল খুবই স্বাভাবিক এবং সেটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল না।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার, যিনি ম্যাচে বিবিসির ধারাভাষ্যকার ছিলেন, রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, ফুটবল এমনিতেই শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। পেনাল্টি বক্সে এত খেলোয়াড়ের ভিড়ে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শিয়ারারের ভাষায়, গোলরক্ষক খুব সহজেই পড়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।
একই ধরনের মত দিয়েছেন বিশ্বকাপের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন কানও। তার মতে, ঘটনাটি খুবই হালকা সংস্পর্শ ছিল এবং চাইলে রেফারি সেটিকে উপেক্ষা করতে পারতেন। তবে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়ায় অনেক সময় রেফারিরা অতিরিক্ত সতর্ক থাকেন এবং সেই কারণেই সম্ভবত গোলটি বাতিল করা হয়েছে। অন্য কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে একই ধরনের সংস্পর্শ হলে হয়তো খেলা চলতেই দেয়া হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেষ সেই গোল বাতিলের হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি জার্মানি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে শুরু থেকেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। জার্মানির প্রথম শটেই কাই হাভার্টজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। পরে নিক ওল্টেমেডের শটও রুখে দিয়ে দলকে বড় সুবিধা এনে দেন তিনি।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে প্রথম তিনটি শট থেকেই গোল করে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায়। যদিও চতুর্থ শটে আন্তোনিও সানাব্রিয়া বল বাইরে মেরে বসেন। জার্মানির হয়ে নাদিম আমিরি পঞ্চম শটে গোল করে আশা বাঁচিয়ে রাখেন। এরপর প্যারাগুয়ের ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার, ফলে আবারও ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।
প্রথম পাঁচটি শট শেষে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। এরপর ষষ্ঠ শটে জোনাথন তাহ বল উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি প্যারাগুয়ের হোসে ক্যানালে। তার সফল শটেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটির।
তবে ম্যাচ শেষ হলেও বিতর্কের শেষ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ে বাতিল হওয়া জোনাথন তাহর গোলটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চলছে আলোচনা। অনেকের প্রশ্ন, ভিএআর কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে, নাকি প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলই বদলে গেছে? জার্মানির বিদায়ের পর সেই প্রশ্নই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।