
প্রতিনিধি 16 May 2026 , 4:15:06 প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই-বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে কারিনা কায়সার ছিলেন এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৬ মে) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, জুলাই বিপ্লবে আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা, বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সারের অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। লিভারের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি আরও লেখেন, জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে কারিনা কায়সার ছিলেন এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার এই আপসহীন ও সাহসী অবস্থান আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।

কারিনা কায়সারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জুলাই অভ্যুত্থানের এই অগ্রনায়ক লেখেন, কারিনোর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তাদের এই কঠিন শোক সহ্য করার ধৈর্য দান করুন।
উল্লেখ্য, লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
প্রসঙ্গত, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।