
প্রতিনিধি 23 April 2026 , 12:37:08 প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলা এবং সেই ঘটনার ছবি তোলার দায়ে কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাকে ৩০ দিনের সামরিক কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্রুত এই শাস্তির ঘোষণা দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানায় আলজাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মূর্তি ভাঙার দায়ে ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপের বিপরীতে সামনে আসছে বাহিনীটির আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার দীর্ঘ ইতিহাসের বিষয়টি। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের সময় কয়েকশ মসজিদ এবং তিনটি গির্জা বোমা মেরে ধ্বংস করা হলেও সেইসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকেই অভিযুক্ত বা আটক করা হয়নি। ফলে ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার এই বিচারিক সক্রিয়তাকে অনেকে শুধু ‘আইওয়াশ’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে গাজায় সংঘটিত বড় বড় অপরাধগুলো এখনও বিচারহীন রয়ে গেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম দেবলে হাতুড়ি দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ যিশুখ্রিস্টের মূর্তির মাথায় আঘাত করছে—এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার ওই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ছবিতে থাকা ব্যক্তিকে নিজেদের সদস্য স্বীকার করে এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই ঘটনাটি তাদের সেনাবাহিনীর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম পরিপন্থি। বর্তমানে দেশটির নর্দান কমান্ড এই ঘটনার তদন্ত করছে।
ঘটনাটিকে গুরুতর ও অপমানজনক বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল সব ধর্মের প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল। একজন সেনার এই হীন কাজ আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে সংবাদমাধ্যম তুর্কি টুডে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫৫টি শহর ও গ্রামে অবস্থান করছে। লিটানি নদীর দক্ষিণে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পশ্চিমে নাকুরা থেকে শুরু করে শাকরা, আইতা আল-শাব, বিন্ট জাবিল এবং আদাইসেহ হয়ে উত্তর-পূর্বে খিয়াম পর্যন্ত বিস্তৃত। এলাকাগুলো ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।