
প্রতিনিধি 24 January 2026 , 7:33:42 প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে, ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফেসবুকে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। এতে তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা-৯ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, এবার এই এলাকার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে নেবে। নির্বাচিত হলে এটি আর অবহেলিত থাকবে না’। ইশতেহারের শেষ অংশে আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই চিকিৎসক প্রার্থী তার ইশতেহারে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং এমপির জবাবদিহিতার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইশতেহারের প্রথম অংশে গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মিত বিল দেয়ার পরও বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া যায় না। চুলা জ্বালালে বাতাস বের হয়, অথচ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটিকে তিনি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাধান হিসেবে তিনি সংসদে ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাবের কথা জানান। গ্যাস সরবরাহ ব্যর্থ হলে বিল মওকুফের দাবি তোলার পাশাপাশি এলপিজি সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্য দামে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষার আগে খাল-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালুর কথাও বলেন তিনি। রাস্তা খুঁড়ে কাজ ফেলে রাখার সংস্কৃতি বন্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯-এর বাসিন্দারা গুলশান-বনানীর মতোই কর ও বিল পরিশোধ করলেও সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। ভোটের সময় নেতারা এলেও নির্বাচনের পর তাদের আর দেখা যায় না। রাষ্ট্র এই এলাকার মানুষকে কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে দেখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজেকে ‘পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, এই এলাকার মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকাকে নিয়ে অবহেলার দিন শেষ।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা বলেন, প্রায় ৭-৮ লাখ মানুষের জন্য ঢাকা-৯ এলাকায় বড় হাসপাতাল মাত্র একটি-মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোক দেখানো মশক নিধনের কারণে প্রতিবছর মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। সমাধানে তিনি মুগদা হাসপাতালে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়, ঢাকা-৯ এলাকার অনেক সড়ক ও অলিগলি মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। সন্ধ্যার পর নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে ‘নিরাপদ করিডোর’ কর্মসূচির আওতায় স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকার রাস্তায় সিসিটিভি ও শক্তিশালী ল্যাম্পপোস্ট বসানোর অঙ্গীকার করেন।
শিক্ষা খাতে ডা. তাসনিম জারা বলেন, অপরিকল্পিত কারিকুলাম ও ভর্তি বাণিজ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। তিনি ঘোষণা দেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। তার বরাদ্দ থেকে স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, ভাষা ও কোডিং ক্লাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।
সবশেষে এমপির জবাবদিহিতা নিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান, তিনি ‘অতিথি পাখি’ হবেন না। নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় চালু, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং কোনো প্রটোকল ছাড়াই জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করবেন।