
প্রতিনিধি 22 January 2026 , 5:46:15 প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ০৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড (মিরপুর-কাফরুল) নিয়ে গঠিত। ঢাকা-১৫ হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি।এটি ঢাকা শহরে অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৮৮নং আসন।
ডা. শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবরে বর্তমান বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটের ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. আবরু মিয়া ও মাতা খাতিবুন নেছা। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি রাজনৈতিক সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ধরনের সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তার নিজ জেলায় প্রতিষ্ঠিতসিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ। তার স্ত্রী আমেনা বেগম একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। যিনি ডা. আমিনা শফিক নামে পরিচিত। তিনি সিলেট এর বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আমেনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা (সলওয়া সাফী, সাবরীন রাদী) ও পুত্র (রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ)।
ডা. শফিকুর রহমানের শিক্ষাজীবন ছিল কৃতিত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক সাফল্যে ভরপুর। তিনি ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার জন্য সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৭৬ সালে সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকে ডা. শফিকুর রহমান সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। দীর্ঘ অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডা.শফিকুর রহমান ছাত্রাবস্থায় ১৯৭৩ সালে জাসদ ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার ছাত্র রাজনীতি শুরু হয়। পরে, ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। সিলেট মেডিকেলে অধ্যয়নরত অবস্থায় ডা.শফিকুর রহমান প্রথমে উক্ত মেডিকেলের শিবিরের সভাপতি ও পরবর্তিতে সিলেট শাখার সভাপতি হন। ১৯৮৪ সালে মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে তিনি সিলেটের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটে থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আমির নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডা. শফিকুর রহমান তৃতীয়বার আমির নির্বাচিত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ ভোটে সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়ায় তিনি আবারও দলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসছেন। প্রথমবার দায়িত্ব পালনের পরে দ্বিতীয়বারে মত ৩১ অক্টোবার ২০২২ সালে তিনি আবার আমির নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে আবার দল ডা.শফিকুর রহমানের উপর আস্থা রাখে এবং তৃতীয় বারের মত অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে আমির নির্বাচিত করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি আমির হিসেবে এই পদে থাকবেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাবে। পাশাপাশি তিনি দলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করবেন।
হলফনামার সম্পদের বিবরণ
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামায় ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি একজন চিকিৎসক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। তার বছরে আয় হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা (কৃষি ও অন্যান্য খাত থেকে)। ডা. শফিকুর রহমানের নিজের নামে ১১.৭৭ শতক জমিতে ডুপ্লেক্স বাড়ি (মূল্য ২৭ লাখ টাকা) এবং ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি।
ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।