
প্রতিনিধি 20 January 2026 , 8:08:46 প্রিন্ট সংস্করণ

র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ও তাদের অবৈধ আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে’। সীতাকুণ্ডের অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ র্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা আবারও আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই-এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এর পেছনে লেগে থাকব। আর জঙ্গল সলিমপুর, যা একটি সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে, শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আছে, তাদের নির্মূল করা হবে।

‘তবে আমরা পুরো অভিযানটি তদন্ত করে দেখব-এখানে কোনো ভুলত্রুটি আছে কি না। যদি ভুলত্রুটি থাকে, সেগুলো সংশোধন করে আগামীতে আরো সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব। র্যাব সেখানে কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের জন্য গিয়েছিল। যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি। আমরা অবশ্যই তাদের গ্রেপ্তার করব’।
র্যাব ডিজি বলেন, সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। ‘এজন্য যারা দায়ী, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যেন তাদের সাজা নিশ্চিত হয়, সেটি আমরা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করব। আপনাদের কথা দিতে চাই-এই ঘটনায় একটি মামলার দায়ের হয়েছে’।
শহীদ মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাঁর স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা পিতা হারিয়েছে। আমরা সেই পিতা বা স্বামীকে এনে দিতে পারব না। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই-এই পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি এবং মোতালেবের পরিবারের পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে র্যাবের প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৫ জন র্যাব সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা যে কোনো মূল্যে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। র্যাবের প্রতিটি অভিযানে ঝুঁকি থাকে। আমাদের সদস্যদের অধিকার ছিল নিজের আত্মরক্ষায় গুলি করা। কিন্তু তারা জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতির শঙ্কায় তা করেনি’।