
প্রতিনিধি 3 March 2026 , 12:05:05 প্রিন্ট সংস্করণ

সান্ধ্য ভোট, দায়মুক্তি আইন প্রত্যাহার এবং দলের নতুন কর্মসূচি নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অসংগতি স্পষ্ট।
তিনি বলেন, “ভোটাররা ভোট না দিলেও ৫৯% ভোট পড়ে গেছে। সাড়ে তিন ঘণ্টার পরে ১৪% ভোট, এরপর ৫৯%-কী হারে চুরি হয়েছে, তা জনগণ দেখেছে।” আওয়ামী লীগ আমলের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যারা সমালোচনা করেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দিনের ভোট রাতে বলা হতো, আর এখন দিনের ভোট আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে।”
দায়মুক্তি প্রত্যাহার ও বিচার দাবি
অপরাধীদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই দায়মুক্তি প্রত্যাহার করে অগ্নিসন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বন্দিদের মুক্তির দাবি জানান।
নির্যাতিতদের উদ্দেশে তিনি মামলা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মামলা না নিলে অনলাইনে, আদালতে বা রেজিস্ট্রি করে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। “মামলার কাগজ হাতে রাখবেন-এখন না হলে ভবিষ্যতে কাজে লাগবে,” বলেন তিনি।
ঐতিহাসিক দিবস পালনের ঘোষণা

আগামী ৭ মার্চের ভাষণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে।
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশু দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানান তিনি।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের কথাও উল্লেখ করেন।
সমালোচনায় ইউনূস ও বিএনপি নেতৃত্ব
বক্তব্যে তিনি মুহাম্মদ ইউনূস-এর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার শাসনামলে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-এর আমলের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলেছে এবং ২০২৪ সালে তা সফল হয়েছে। তবে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে আছি, ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরবো।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান বিচারপতিকে অপমান করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নেই। “এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না,” মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীকে রমজান ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”