
প্রতিনিধি 1 March 2026 , 5:13:50 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল। কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও বৈঠকের ধরন শনাক্ত করে আসছিল সংস্থাটি। খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন-এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আকাশ ও নৌ-অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে রয়টার্স সূত্রে জানানো হয়েছে।
একজন মার্কিন সূত্রের বরাতে বলা হয়, খামেনির ওই বৈঠকটি প্রথমে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি নেতৃত্ব-সংক্রান্ত কম্পাউন্ডে বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, সিআইএ নিশ্চিত হয় যে খামেনেয়ি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
এই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনে বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। এই তথ্য দুই দেশের জন্য ‘সুযোগের জানালা’ খুলে দেয় এবং সেই সুযোগই তারা পরিপূর্ণভাবে তা বাস্তবায়নে করার দিকে এগোয়।
রয়টার্স জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, বিস্ময় সৃষ্টির জন্য প্রথমে খামেনিকে আঘাত করা প্রয়োজন, আর এমন চান্স হাত ছাড়া করা যায় না। কারণ, সুযোগ পেলে ইরানি নেতা আত্মগোপনে চলে যাবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের পরপরই (ইরানে তখন দিন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেন। জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার দুই দিন পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ইসরায়েল ভোর প্রায় ৬টায় অভিযান শুরু করে, দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে।

যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সকালের হামলাটি তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে চালানো হয়েছে, যার একটি স্থানে ইরানের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা স্তরের শীর্ষ ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে ‘চমক’ দিতে সক্ষম হয়। অভিযানের শুরুতেই তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে আঘাত হানা হয় এবং স্যাটেলাইট চিত্রে কম্পাউন্ডটি ধ্বংসের প্রমাণ মেলে। এতে ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বদলে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে তোলপাড় শুরু হয় ইরানসহ বিশ্বজুড়ে। দেশটির শাসনব্যবস্থায় এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি সর্বোচ্চ নেতার ‘খুনিদের’ শাস্তি দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। আইআরজিসি তাদের টেলিগ্রাম বিবৃতিতে জানায়, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণ চালানো হবে।
ইরানের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন।
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সাহসী সেনারা ও মহান জাতি আন্তর্জাতিক দমন-পীড়নকারীদের অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেবে।’
সূত্র: এনডিটিভি