
প্রতিনিধি 15 February 2026 , 8:31:06 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে, বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনও বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
ছায়া মন্ত্রীসভা কি? এটি হচ্ছে বিরোধী দলের গঠিত একটি -বিকল্প মন্ত্রিসভা কাঠামো, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন। এই মন্ত্রীরা মূলত বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা। যেমন: অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিরোধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নীতি ও আইন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলা; শুধু বিরোধিতা নয়, একই ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত সমাধান তুলে ধরে বাজেট, আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সব বড় আলোচনায় খাতভিত্তিক বক্তব্য দেয়া; সংবাদ সম্মেলন, নীতিগত প্রস্তাব-প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা।
পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হলে এই ছায়া মন্ত্রীরাই প্রায়শই মন্ত্রীর দায়িত্ব পান, ফলে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকে। এতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসনিক দক্ষতা তৈরি হয়।
ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রভাবশালী রূপ দেখা যায় যুক্তরাজ্যে। অস্ট্রেলিয়াতেও বিরোধী দল সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং সংসদীয় কমিটি ও নীতি-নির্ধারণী বিতর্কে সক্রিয় থাকে। কানাডাতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে কখনও অপজিশন ক্রিটিক বলা হয়।
এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডেও বিরোধী দল সরকারবিরোধী নীতি বিশ্লেষণ ও বিকল্প পরিকল্পনায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা আছে।