
প্রতিনিধি 11 February 2026 , 7:15:41 প্রিন্ট সংস্করণ

আবদুর রহমান খান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট। তবে নির্বাচন থেকে বাইরে থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দলটি। এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়েছে তাদের ভোট ব্যাংক। আবার ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কি ধরণের আচরণ করেছে, সেটি মাথায় রেখেও সিদ্ধন্ত গ্রহণ করছেন আওয়ামী লীগের ভোটাররা।
অপরদিকে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে একটি অংশ ঝুঁকছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দিকে। অন্য অংশ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ইসলামী জোটের দিকে। আর একটি বড় অংশই রয়েছে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে। মূলত; শেষ অংশের এ ধরণের দলীয় সমর্থকরা ভোটের দিনে যে কোন ধরণের সহিংতা ও পুলিশের হাতে আটকের ভয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিভাজনই আসন্ন নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে। বর্তমানে রাজনীতির মাঠে আলোচনায় থাকা শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের একমাত্র টার্গেট আওয়ামী লীগের ভোট। দুই দলই ভিন্ন কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রভাব, সাংগঠনিক শক্তি এবং নিরাপত্তার আশ্বাস-এই ৩টি বিষয়কে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে চলছে সমীকরণ।

সারাদেশ থেকে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, যেসব এলাকায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী, সেসব এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিএনপির প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছে। আবার যেসব এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব তুলনামূলক বেশি, সেখানে আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছেন। আবার এ ক্ষেত্রে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মামলার নিস্পত্তি নিয়েও সহযোগিতার কথা বলছেন।
এদিকে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক নির্বাচন সংলাপে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই ভোট পাওয়ার জন্য তারা আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর অন্যতম লক্ষণ হলো-ভোটের বিনিময়ে অনেক নেতা-কর্মীকে মামলা থেকে রেহাই বা প্রত্যাহারের আশ্বাস।
আর দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচনে ভোটকাস্টিং যেন কম হয়। তাদের ধারণা, ভোটার উপস্থিতি কম হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অপরদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক ভোটারদের এই নির্বাচনে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে কয়েকজন নেতা স্বীকার করেন।
তারা বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ দলের আরও কয়েকজন নেতা ভোট না দেয়ার জন্য একই আহ্বান জানিয়েছেন। দলটির নেতারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনানুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা কর্মীপর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।
এরমধ্যে এলাকায় থাকার স্বার্থে ও রামাদান মাসকে সামনে রেখে নিরীহ এসব ভোটাররা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে। তবে হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, দলীর কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এই ‘বিশাল ভোটব্যাংক’ এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমীকরণ।