
প্রতিনিধি 17 January 2026 , 7:47:21 প্রিন্ট সংস্করণ

মোস্তাফিজ ইস্যুতে মাঠের বাইরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলছে কঠিন লড়াই। সেই উত্তেজনার মাঝেই শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হয়। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে ধসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আল ফাহাদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ২৩৮ রানেই ভারতকে অলআউট করেছে আজিজুল হাকিম তামিমের দল।
অপরদিকে, ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগাররা। সে সিদ্ধান্তটা যে সঠিকই ছিল, তা বাংলাদেশের বোলাররা বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করে। শুরু থেকে ভারতকে চেপে ধরে। তবে ইনিংসের ৩৯তম ওভারে ফাহাদ ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন খানিকটা। চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ৪ বল করেই। সে ওভারে রিজান হোসেন ক্যাচও ছেড়েছিলেন। পরে সাদকে দিয়ে ওভার শেষ করার পর নামে বৃষ্টি। ৬৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলার দৈর্ঘ্য কমে ১ ওভার করে। এর পরই বৃষ্টি আইনে ১৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশী অনুর্ধ্ব-১৯।
দুর্দান্ত শুরুর পরও নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে সামান্য রানে হেরেছে টাইগার যুবারা। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে প্রথমে ব্যাট করে বেধে দেয়া ৪৯ ওভারে ২৩৮ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টাইগারদের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। কিন্তু প্রতিপক্ষের বোলিং তোপে ২৮ দশমিক ৩ ওভারে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ১৮ রানে জিতে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করল ভারতের যুবারা।
অথচ, বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে এদিন ভারতকে ২৩৮ রানেই থামিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে জাওয়াদ আবরারকে হারিয়ে ফেললেও রিফাত বেগ ও অধিনায়ক তামিমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায়। ৩৭ বলে ৩৭ রান করে রিফাত বিদায় নেন দলীয় ৬২ রানে, ক্রিজে নামেন কালাম সিদ্দিকি। ১৮তম ওভারে আবারো নামে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি থামলে ইনিংসের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২৯ ওভারে, লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৫ রান।

তবে সেই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে টাইগাররা শেষদিকে খেই হারায়। অধিনায়ক তামিম ৭২ বলে ৫১ রান করলেও শেষপর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় হার নিয়ে। তবে এই বৃষ্টির পরই বাংলাদেশ পেয়ে যায় সপ্তম উইকেটের দেখা। এরপর ফাহাদের চমকে ২৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ৯ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে ভারতের ৫ উইকেট তুলে নেন আল ফাহাদ। যা বাংলাদেশের ইনিংসের সেরা বোলিং। এছাড়া, সমান দুটি করে উইকেট লাভ করেন, ইকবাল হোসেন ইমন এবং আজিজুল হাকিম। ১টি উইকেট লাভ করেন শেখ পারভেজ জীবন।
এদিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে উৎসবের শুরুটা করে দিয়েছিলেন আল ফাহাদ। ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রেকে কালাম সিদ্দিকির ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। এর পরের বলেই তিনি শিকার করেন বেদান্ত ত্রিবেদীকে। ১২ রানে ২ উইকেট খুইয়ে বিপাকে পড়ে ভারত।
এরপর বৈভব সূর্যবংশী একাই চেষ্টা করেছিলেন ভারতকে তরিয়ে নেয়ার। ৩০ বলে ফিফটি তুলে বাংলাদেশকে চোখ রাঙানি দিচ্ছিলেন। তবে এরপরই বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম দারুণ ভাবে ভারতকে চেপে ধরেন, বোলারদের অদল-বদল করে। ৩০ বলে ফিফটি করা বৈভব আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত খেলেছেন আরও ৩৭ বল, রান তুলতে পেরেছেন আর মোটে ২২টি।
মাঝে আবার বিহান মালহোত্রার উইকেট তুলে নেন অধিনায়ক তামিম নিজেই। এরপর বৈভব যখন থিতু হয়ে ইনিংস গড়ায় মন দিয়েছিলেন, তখন আঘাত হানেন শুরুর স্পেলে বেশ রান দেওয়া ইকবাল হোসেন ইমন। তার বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আল ফাহাদের হাতে ক্যাচ দেন বৈভব। ৬৭ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি। এরপর খুব দ্রুতই পঞ্চম উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। হরবংশ পাঙ্গালিয়াকে ফেরান সেই ইমনই। ১১৯ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে বসে ভারত।
তবে এরপরই অবশ্য প্রতি আক্রমণ শুরু করেন অভিজ্ঞান কুণ্ডু ও কনিষ্ক চৌহান। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে তোলেন ৪৫ বলে ৫৪ রান। কনিষ্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন অধিনায়ক তামিম। এরপর পর বাংলাদেশ ভারতকে বড় জুটি গড়তে দেয়নি ঠিক, কিন্তু ভারত ছোট ছোট অথচ কার্যকর কিছু জুটি পেয়ে গেছে, যা তাদের নিয়ে গেছে লড়াকু পুঁজির দিকে।