
প্রতিনিধি 31 December 2025 , 6:49:31 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। তার মাত্র ২ বছর পরই ঢাকায় বসেছিল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ সাফ গেমস (বর্তমান নাম এসএ গেমস)। ১৯৯৩ সালের ওই সাফ গেমস ছিল ঢাকায় ৮ বছর পর। বাংলাদেশ প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার এই গেমস আয়োজন করেছিল ১৯৮৫ সালে।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ইতিহাস গড়ে বেগম খালেদা জিয়ার সামনে দুই বছরের মাথায় ছিল এই গেমস আয়োজনের চ্যালেঞ্জ। সফলতার সঙ্গে গেমস আয়োজনের পেছনে ছিল বেগম জিয়ার আন্তরিকতা ও নির্দেশনা। গেমস আয়োজনের দায়িত্ব বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ)। ওই সময় বিওএ’র সভাপতি ছিলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী ও মহাসচিব ছিলেন বশির আহমেদ। গেমস আয়োজনের সেই স্মৃতি রোমান্থন করতে গিয়ে তৎকালীন মহাসচিব বশির আহমেদ বলেন, ‘গেমস আয়োজনের জন্য তো আগে থেকেই চিন্তাভাবনা থাকে।
আমাদের তখন বড় দরকার ছিল বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি। তৎকালীন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা, ওই সময়ের বিওএ সভাপতি গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং আরও কয়েকজন মিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। গেমস আয়োজনে তার অনুমতি, গাইডলাইন এবং তাকে গেমসে আমন্ত্রণ করতেই গিয়েছিলাম।
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দুই বছরের মাথায় বেগম খালেদা জিয়া গেমস আয়োজনের জন্য আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস ও সাহস দিয়েছিলেন।’ বশির আহমেদ বলেন, ‘ওই বছর ২০ থেকে ২৭ ডিসেম্বর হওয়া সাফ গেমসের জমকালো উদ্বোধন হয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গেমস উদ্বোধন করেছিলেন। গেমস আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মাঠে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।’

ঢাকায় হওয়া দ্বিতীয় সাফ গেমস সফলতার সঙ্গেই শেষ হয়েছিল। ১১টি ডিসিপ্লিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭ দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ নিয়ে আয়োজিত এই গেমস। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ পেয়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বড় সাফল্যটি। ২০০৩ সালে ঢাকায় বসেছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়েছিল সাফ জিতে।
সেমিফাইনালে ভারতকে ও ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ ঘরে তুলেছিল ঐতিহাসিক সেই ট্রফি। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিটি সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫ কাঠা করে সরকারি প্লট প্রদান করা হয়। সাফ ফাইনালে বাংলাদেশের অধিনায়ক হাসান আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেকে ৫ কাঠা করে প্লট পেয়েছিলাম। ক্রীড়াঙ্গনে এমন সম্মান আর কখনো পাইনি।’ তিনি আরও জানান, সাফ জয়ের জন্য প্রত্যেক ফুটবলারকে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ৪ লাখ টাকা উপহার দেন। ফলে বাকি অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করে জমির মালিক হতে ফুটবলারদের কোনো সমস্যা হয়নি।
বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র কোকো ক্রিকেট বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে ক্রিকেট উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। তবে নিজের পুত্রকে বেগম জিয়া ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ কোনো পদে বসাননি। তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি ও পারিবারিককরণের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে নারীদের ক্রীড়ায় ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেলে ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণার জন্য পুরস্কার প্রদানের রেওয়াজ শুরু হয়েছিল তার সময়েই, যখন সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফুটবল দলকে স্বর্ণপদক, অর্থ এবং পরে সরকারি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন।