
প্রতিনিধি 30 December 2025 , 3:41:01 প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জোট বাহিনী। সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেয়া বক্তব্যে জোট বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা বন্দর থেকে আসা ওই দুটি জাহাজ ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশ করে।
আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধযান খালাস করা হয়, যা ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সক্রিয় সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনীকে সহায়তা দেয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। তার দাবি, এসব অস্ত্র সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই আনা হয়।
তিনি বলেন, এসব অস্ত্র ও যুদ্ধযান নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করায় জোটের বিমান বাহিনী মঙ্গলবার সকালে একটি সীমিত সামরিক অভিযান চালায়। অভিযানে মুকাল্লা বন্দরে ওই দুই জাহাজ থেকে খালাস করা অস্ত্র ও যুদ্ধযান লক্ষ্য করে হামলা করা হয়।

মেজর জেনারেল আল-মালিকি আরও বলেন, এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও এর প্রচলিত নিয়ম মেনেই পরিচালনা করা হয়েছে এবং এতে লক্ষ্যের বাইরে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে উত্তেজনা প্রশমনে জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈধ ইয়েমেনি সরকার ও জোটের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো গোষ্ঠীর কাছে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো ঠেকাতে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
তুর্কিভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, এ ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এসটিসি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ধারাবাহিক সরকারগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করেছে এবং তারা উত্তর ইয়েমেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি জানাচ্ছে। তবে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।