
প্রতিনিধি 9 December 2025 , 4:44:15 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ভুল জীবনযাপন ও খাবারের অভ্যাস অজান্তেই গলস্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়।
পিত্তথলির পাথর বা গলস্টোন অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে তৈরি হয়। কিন্তু একবার পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি করলে তা তীব্র ব্যথা, বমি, বদহজমসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ভুল জীবনযাপন ও খাবারের অভ্যাস অজান্তেই গলস্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়। ম্যানিপাল হাসপাতাল বান্দর, পুনে-এর সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. অনিকেত পায়াগুডে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই পাঁচটি ঝুঁকির অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন।
ডা. পায়াগুডে জানান, আজকাল কম বয়সেই অনেকের পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ছে। পিত্তথলিতে জমে থাকা শক্ত কলেষ্টেরল বা অন্যান্য উপাদান মিলেই তৈরি হয় পাথর। অধিকাংশ সময় এগুলো কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি করলে দেখা দেয় বদহজম, বমি, বমিভাব ও তীব্র পেটব্যথা। শুরুতেই চিকিৎসা না হলে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি পর্যন্ত করতে হতে পারে।
গলস্টোনের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৫ অভ্যাস
১. বারবার খাবার বাদ দেয়া
ডা. পায়াগুডে বলেন, খাবার বাদ দিলে দীর্ঘ সময় পিত্তথলিতে পিত্ত জমে থাকে। পিত্ত স্থির হয়ে গেলে কলেস্টেরল জমে পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া পিত্তথলি খালি রাখতে সাহায্য করে।
২. অতিরিক্ত ভাজা-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া

ভাজাপোড়া, প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি পিত্তে অতিরিক্ত কলেস্টেরল বাড়ায়। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে গঠিত হতে পারে গলস্টোন, যা পরবর্তীতে সার্জারির প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়।
৩. স্থবির বা অলস জীবনযাপন
পর্যাপ্ত নড়াচড়া না করলে শরীরের বিপাক হ্রাস পায় এবং পিত্ত সঞ্চালন ধীর হয়। স্থূলতা গলস্টোনের অন্যতম বড় ঝুঁকি। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা পিত্তথলির জন্য সুরক্ষামূলক।
৪. ক্র্যাশ ডায়েট বা হঠাৎ দ্রুত ওজন কমানো
দ্রুত ওজন কমালে লিভার বেশি কলেস্টেরল উৎপাদন করে, যা পিত্তকে অস্থির করে তোলে এবং পাথর তৈরি হয়। তাই দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে ধীরে, নিয়মিত ও নিরাপদ উপায়ে ওজন কমানোই উত্তম।
৫. খাবারে ফাইবার ও পানি কম খাওয়া
ফাইবার ও পানি কম খেলে পিত্ত সঞ্চালন ধীর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া দুর্বল হয়। ফলমূল, শাকসবজি ও হোলগ্রেনের মতো উচ্চ-ফাইবার খাবার কলেস্টেরল জমা প্রতিরোধ করে। পর্যাপ্ত পানি পান পিত্তকে তরল রাখে এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
কখন সার্জারি প্রয়োজন হয়: সব গলস্টোনের জন্য চিকিৎসা দরকার হয় না। তবে ঘন ঘন ব্যথা, সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হলে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে পিত্তথলি অপসারণ সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। জটিল ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারিও লাগতে পারে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ক্র্যাশ ডায়েট এড়ানোর মতো সাধারণ জীবনযাপনের পরিবর্তন গলস্টোনের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। দীর্ঘদিন পেটব্যথা বা হজমে সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম এতে জটিলতা কমে এবং জরুরি সার্জারির প্রয়োজনও এড়ানো যায়।