
প্রতিনিধি 30 November 2025 , 5:01:30 প্রিন্ট সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র প্রভাবে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৩। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি। রোববার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) এ তথ্য জানিয়েছে।
ডিএমসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে ২০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র প্রস্থানের পর বর্তমানে দেশটির এক তৃতীয়াংশ অঞ্চল খাবার পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের কারণে বিপর্যস্ত দেশটির সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
সব মিলিয়ে নিকট অতীতের ভয়াবহতম আবহাওয়া বিপর্যয়ের সম্মুখীন এখন এই দ্বীপদেশটি। দুর্যোগ মোকাবেলায় গতকালই (শনিবার) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

এদিকে কেলানি নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ক্যান্ডি ও বাদুল্লাতে, যেখানে অনেক অঞ্চল এখনও পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শ্রীলঙ্কা সরকার ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা প্রদানে প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদের অর্থ দান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানে শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলে, যদিও এর আগমনী প্রভাবে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল কয়েকদিন আগে থেকেই। ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার-ই শ্রীলঙ্কা ছেড়ে গেলেও এর ধ্বংসলীলা কাটিয়ে উঠা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির জন্য। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় বর্ষাকাল চলছে, কিন্তু এতটা চরম আবহাওয়া সচরাচর দেখা যায় না দেশটিতে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি